বিহারে কংগ্রেস ৫ আসনে এগিয়ে—এই তথ্যটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি যে কতটা গভীর। বিজেপি–জেডিইউ-র NDA জোট যেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে ছুটছে, সেখানে দেশের অন্যতম প্রাচীন দলটির অবস্থান গুরুতরভাবে সংকটজনক।
এই ফলাফল শুধু সংখ্যায় নয়, প্রতীকী দিক থেকেও কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যে রাজ্যে একসময় কংগ্রেস শক্তিশালী ছিল, সেখানে আজ তারা এগোচ্ছে মাত্র ৫টি আসনে—এটি INDIA জোটের জন্য বড় ধাক্কা।
বিহারে কংগ্রেস ৫—কোন কোন আসনে এগিয়ে? সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিহারে কংগ্রেস ৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেগুলি হলো— ভালমিকীনগর, বেত্তিয়াহ, মনিহারি, বেগুসরাই এবং চেনারি।
এই আসনগুলিতে কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোটসংখ্যা এবং ব্যবধান খুব বেশি নয়, যা প্রমাণ করে—
কংগ্রেসের লড়াই এখনো নড়বড়ে, শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানো নয়।
বিহারে বামেরা এগিয়ে ৮ আসনে, কংগ্রেস লিড মাত্র ৫ আসনে! কোথায়? কে? কত ভোটে?

উদাহরণ হিসেবে—
ভালমিকীনগরে সুরেন্দ্র প্রসাদ মাত্র ৯৯৩ ভোটে। বেত্তিয়াহতে ওয়াশি আহমদ ৬৮৪ ভোটে। চেনারিতে মঙ্গল রাম এগিয়ে আছেন মাত্র ২২১ ভোটে। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, বিহারে কংগ্রেস ৫ হলেও লড়াই মোটেও নিশ্চিত নয়। যেকোনো রাউন্ডেই চিত্র পাল্টাতে পারে।
কংগ্রেসের এই ভরাডুবির কারণ কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে— কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থী বাছাইয়ে গড়িমসি এবং তৃণমূল স্তরে সক্রিয়তার অভাবই এর মূল কারণ। INDIA জোটের মধ্যে আরজেডি লড়াই ধরে রাখলেও কংগ্রেসের ব্যর্থতা জোটের শক্তি কমাচ্ছে।
গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা বলছে—
বিহারে কংগ্রেস ৫ মানেই শুধু খারাপ ফল নয়, এটি INDIA জোটের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতীক।
NDA ঢেউ—অপ্রতিরোধ্য BJP-JDU জোট। একদিকে কংগ্রেস যখন পাঁচটি আসনে সীমাবদ্ধ, অন্যদিকে NDA এগিয়ে প্রায় ২০০ আসনে—এটি নির্বাচনের চিত্র স্পষ্ট করছে। জেডিইউ একাই এগিয়ে ৮৯টি আসনে বিজেপি এগিয়ে ৮৪টি আসনে।
মোদী-নিতিশ ফ্যাক্টর, গ্রামীণ নেটওয়ার্ক, সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে NDA-র ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত। ফলে INDIA জোটের প্রতিরোধ ভেঙে পড়েছে। এ কারণেই বিহারে কংগ্রেস ৫—এই তথ্য বৃহত্তর NDA ঢেউয়ের ধারাবাহিক অংশ।
বামফ্রন্টের উত্থান—৮টি আসনে এগিয়ে বামেরা। NDA-INDIA লড়াইয়ের মাঝে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে বামফ্রন্ট। তারা এগোচ্ছে ৮টি আসনে— দরউন্ডা, পলিগঞ্জ, আরাহ, দোমরাঁও, কারাকাট, অরবল, ঘোসি এবং হায়াঘাট।
এই আসনগুলির বেশ কিছুতে বাম প্রার্থীরা ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে, যা দেখাচ্ছে—গ্রামীণ ও শ্রমজীবী ভোটের একাংশ আবারও বামের দিকে ঝুঁকছে। হায়াঘাটের সিপিআইএম প্রার্থী শ্যাম ভারতী এগিয়ে ১৫৬৮ ভোটে, যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
INDIA জোটের দুর্বলতার মাঝে বিহারে বামেরা ৮—এই তথ্য তাদের জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক শক্তি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিহারে কংগ্রেস ৫—আগামী দিনে এর প্রভাব কী হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কংগ্রেস এভাবেই কম আসনে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে— জোটের কাঠামো ভেঙে পড়বে, আরজেডির ওপর চাপ বাড়বে, কংগ্রেসের পুনর্গঠন অনিবার্য হয়ে উঠবে। এই ফল বরাবরের মতো কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।



