দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে নতুন মোড়! ‘মিথ্যে’ অভিযোগে ফেঁসেছেন ৫ যুবক?

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ অভিযুক্তের পরিবার এখন কার্যত গৃহবন্দি। গ্রামবাসীর প্রশ্ন—নির্যাতিতা ও সহপাঠী কি নিজেরাই বানালেন ‘গণধর্ষণ’-এর গল্প?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড ঘিরে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। নির্যাতিতা ও তাঁর সহপাঠী নাকি নিজেরাই সাজিয়েছিলেন ‘গণধর্ষণ’-এর গল্প! এমনই দাবি অভিযুক্তদের পরিবারের। অভিযোগ, পুলিশের তড়িঘড়ি পদক্ষেপে গ্রেফতার হয়েছেন নির্দোষ পাঁচ যুবক, যাঁদের পরিবার আজ লোকলজ্জায় কার্যত গৃহবন্দি।

ঘটনাটি দুর্গাপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজড়া গ্রাম ও মহুয়াবাগান এলাকার। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মেডিক্যাল পড়ুয়া ছাড়া বাকিরা স্থানীয় যুবক। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রথমে আনা হয় গণধর্ষণের অভিযোগ। কিন্তু তদন্ত এগোতেই দেখা যায়, পুলিশের বক্তব্যে মিলছে না একাধিক অসঙ্গতি। পুলিশ কমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আরও বিভ্রান্তি—তিনি জানিয়েছেন, “একজন অভিযুক্ত ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত।” তাহলে বাকি চার জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের ধারা কেন? এই প্রশ্নেই উত্তাল স্থানীয় জনতা।

পরিবারগুলির অবস্থা করুণ। অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। কেউ বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। কাজকর্ম বন্ধ, সমাজচ্যুত হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। শেখ নাসিরউদ্দিন নামে এক অভিযুক্তের দিদি হাসিনা বিবি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ভাই নির্দোষ। কাজ শেষে বাড়ি ফিরেছিল। কিন্তু এখন পুলিশ বলছে ও ধর্ষণ করেছে! ফাঁসানো হয়েছে ওকে।”

আরেক অভিযুক্ত শেখ সফিকুলের পরিবার জানাল, সংবাদমাধ্যমে মুখ দেখাতে ভয়। তাঁর বাবা সৈয়দ হুসেন জানলা থেকে বলেন, “যা জানার পুলিশের কাছে জানুন। আমরা আইনের উপর আস্থা রাখি।”

প্রতিবেশীদের বক্তব্যও ভিন্ন সুরে। অনেকেই বলছেন, ধৃতদের মধ্যে কেউই অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিল না। তাই তাঁদের চোখে এই গ্রেপ্তার ‘অন্যায়’। স্থানীয় বাসিন্দা এক ব্যক্তি ক্ষোভে বলেন, “একজন ধর্ষণ করেছে বলে যদি ধরা হয়, তাহলে বাকি চার জনকে কেন গণধর্ষণের মামলায় ধরা হল?”

অভিযুক্ত অপু বাউরির দাদাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদমাধ্যম কিছু না জেনেই ভাইকে ধর্ষক বানিয়ে দিল!”

এমনই পরিস্থিতিতে শেখ ফিরদৌসের পরিবার পুরোপুরি গ্রামছাড়া। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, ঘটনার পর থেকেই তাঁদের বাড়ি তালাবন্ধ। কেউ জানে না তাঁরা কোথায় গেছেন। অন্যদিকে শেখ রিয়াজুদ্দিনের মামা শেখ রেজায়ুলের কথায়, “আমরা বাইরে বের হতে পারছি না। সবাই আমাদের দিকে আঙুল তুলছে। সব শেষ।”

বিজড়া হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শেখ নিজামুদ্দিন এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ধৃতদের মধ্যে দু’জন আমার স্কুলের ছাত্র ছিল। আজ এই অবস্থায় তাদের দেখে খারাপ লাগছে। তবে সত্যিটা সামনে আসুক, দোষীরা শাস্তি পাক।”

পুরনো ও শান্ত এই দুই গ্রামে এখন অস্বস্তির বাতাবরণ। প্রশ্ন উঠছে—গণধর্ষণের অভিযোগে ফেঁসেছেন কি নির্দোষ পাঁচ যুবক? না কি সত্যিই ভয়ঙ্কর কোনও অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা চলছে? এই দ্বন্দ্বে জর্জরিত গ্রামবাসী, প্রশাসনের কাছেও এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সত্য উদ্ঘাটন করা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন