স্বপ্নভঙ্গ এবং নির্বাসন, বামেদের প্রত্যাবর্তন অদেখাই রইল বুদ্ধদেবের

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ নাগাদ পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই তিনি প্রয়াত হন। বুদ্ধদেব ছিলেন ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের দ্বিতীয় এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তেইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকীর ঠিক একদিন পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ নাগাদ পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই তিনি প্রয়াত হন। তিনি ছিলেন ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের দ্বিতীয় এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী। ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা এগারো বছর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভ্রাতুষ্পুত্র। রাজনীতিতে আসার আগে ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালোবাসতেন। এরপর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা অনার্স নিয়ে ভর্তি হন। বামপন্থী পরিবারেই তাঁর বেড়ে ওঠা। রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতির প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। নিজে কবিতাও লিখতেন।নাট্যজগতের সঙ্গেও ছিল নিবিড় যোগাযোগ। ভালোবাসতেন রবীন্দ্রনাথের গান শুনতেন। সারাটা জীবন সাদা পাঞ্জাবি, সাদা ধুতি আর কোলাপুরি চপ্পল পরেই কাটিয়ে দিয়েছেন বুদ্ধদেব।

তবে, এই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামের আগেই বিতর্কিত শব্দটি যুক্ত হয় ২০০৭ সালে। সেই সময় রতন টাটাকে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর এক লক্ষ টাকার গাড়ি কারখানা নির্মাণ করতে চান তিনি। স্লোগান ছিল ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’। কিন্তু, জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিতর্ক। বিরোধী নেত্রী হিসাবে বুদ্ধদেবের বিপক্ষে ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চালায় পুলিশ। সংঘর্ষে নিহত হন ১৪ জন গ্রামবাসী। এই গুলি চালানোয় মত ছিল না ‘ব্যক্তি’ বুদ্ধের। কিন্তু, সরকারের চেয়ারে থেকে নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন তিনি।

এরপর ২০১১ সাল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুদ্ধদেবই বামেদের শেষ অভিভাবক। এগারো সালের পর থেকে ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু বাম শক্তি। এই মুহূর্তে রাজ্যে তাঁদের আসন সংখ্যা শূন্য। বুদ্ধদেব আর বামেদের প্রত্যাবর্তন দেখতে পারলেন না। তার আগেই চলে যেতে হল। বুদ্ধদেবের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহল আজ শোকস্তব্ধ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন