নজরবন্দি ব্যুরো: একবার জিতে যাওয়া মানেই আর পাঁচ বছর ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে থাকা নয়। ছয় মাস অন্তর অন্তর হবে মূল্যয়ন। সেখানেই ঠিক হবে নির্বাচিত প্রতিনিধি পদে থাকবেন কিনা। কারণ, এই মূল্যায়নে যদি দেখা যায় কারুর কাজ পছন্দ হয়নি তাহলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের আগে নয়া ভাবনা তৃণমূল কংগ্রেসের।
আরও পড়ুন: ভিক্টোরিয়া সাজল ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙে, কেন জানেন?
শুদ্ধিকরণের পথে হাঁটতে চায় শাসক দল। নেপথ্যে আছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েতের টিকিট বিলির সময়েও দেখা গিয়েছিল যাদের কাজে দল সন্তুষ্ট নয় তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়নি। এবার ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদকাল ‘নবীকরণ’-এর সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। আর এই নিয়ম কার্যকর হবে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই, অর্থাৎ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে। সব ক্ষেত্রেই থাকবে দলের নজরদারি। আর সেখানে ফেল করে যাওয়া মানেই পদ নিয়ে টানাটানি শুরু।

তবে, পঞ্চায়েত প্রধান যারা হবেন তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল থাকবে। আড়াই বছর অন্তর প্রধানদের মূল্যায়ন হবে। পঞ্চায়েত ভোটের আগেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আভাস দিয়েছিলেন যে, এবার ওপরমহল তেকেই চালয়া করা হবে পঞ্চায়েতের কাজ। আর বোর্ড গঠনের আগেই কিন্তু বিষয়টিকে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর শাসক দল। ‘এক ডাকে অভিষেক’ নামের একটি কর্মসূচির কথাও ভাবা হয়েছে। সেখানে দেওয়া নম্বরে ফোন করে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ বা উন্নয়নের দাবি জানাতে পারবেন গ্রামবাসীরা।

তৃণমূলের এই ‘নবীকরণ’ পদ্ধতিকে অবশ্য কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তাঁদের মতে, পঞ্চায়েতের কাজকর্ম ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য থাকে গ্রামসভা। আর এখন সেই গ্রামসভার ভূমিকাকেই নস্যাৎ করে দিয়ে সব ক্ষমতাকে শীর্ষস্তরে কুক্ষিগত করতে চাইছে তৃণমূল বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী পক্ষ। অন্যদিকে, বোর্ড গঠনের সময়ও সব সিদ্ধান্ত উপর থেকে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শাসক দল। এবার এই পদ্ধতিতে কতটা সফল হয় তাঁরা সেটাই দেখার।
কাজ পছন্দ না হলেই সরিয়ে দেওয়া হবে, পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের আগে নয়া ভাবনা তৃণমূলের




