নজরবন্দি ব্যুরোঃ দলের সাংসদ তথা আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে ঘিরে বিড়ম্বনা কাটছে না বঙ্গ কংগ্রেসের! কখনও রাজ্য সরকার, কখনও শাসক দল তৃণমূল নেতাদের হয়ে আদালতে মামলা লড়ছেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। যা নিয়ে বারবার বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেসকে। কংগ্রেস সাংসদ এই আইনজীবীর জন্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে থাকা দলীয় কর্মীদের অস্বস্তি ও লজ্জায় পড়তে হচ্ছে। যে কারণে অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে প্রদেশ কংগ্রেস।
আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই! গুরুতর অভিযোগ
একদিকে সাংসদ যখন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হয়ে মামলা লড়ছেন এবং যার ফলে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কে সরানো হয়েছে অভিষেক সংক্রান্ত মামলা থেকে তখন অন্যদিকে চাকরি-প্রার্থীদের বিচার পাওয়ার দাবিতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের অবস্থানের সমর্থনে কলকাতায় মিছিল করেছে কংগ্রেস। একেবারে বিপরীত অবস্থান।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় প্রদেশ কংগ্রেস বিড়ম্বনায় পড়েছে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির কারণে। যে DA মামলা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে রাজ্য সরকার, সেই ডিএ মামলা করেছেন কংগ্রেস নেতারাই। কারণ, কনফেডারেশন INTUC অনুমোদিত ও কংগ্রেস সমর্থিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন এই মামলা করেছে। অথচ সুপ্রিম কোর্টে তাদেরই বিরোধিতা করছেন খোদ কংগ্রেস নেতা।

সবমিলিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুণ্ডপাত করা হয়েছে সিঙ্ঘভির। প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক সুমন রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমি দলগতভাবে কোনও মন্তব্য করতে পারব না। তবে অভিষেক মনুসিংভির উপর রাজ্যের নেতারা ক্ষুব্ধ বলে আমি করি। কারণ, একের পর এক মামলায় অভিষেক মনুসিংভি এই দুর্নীতিপরায়ণ রাজ্যের সরকারের হয়ে সওয়াল করছেন। রাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মী যে ডিএ-র দিকে তাকিয়ে আছেন সেই মামলাতে উনি রাজ্যের সঙ্গ দিচ্ছেন, যা লজ্জার।’
রোজগারের থেকে দল বড়, রাজ্য সরকারের হয়ে DA মামলা আর লড়বেন না অভিষেক?

কিন্তু এই সবে কি কর্ণপাত করছেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব? এখন পর্যন্ত কোন উত্তর আসেনি। তবে প্রদেশ নেতাদের ধারণা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বুঝবেন রোজগারের থেকে দল বড়, তিনি হয়তো এই মামলা ছেড়ে দেবেন। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য অন্য, তৃণমূল বলছে রাজ্য থেকে রাজ্যসভায় গিয়েছেন মনু, তাও তৃণমূলের সমর্থনে। তাই দলের প্রতি দায়বদ্ধ তিনি।
অন্যদিকে প্রদেশ সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলছেন, ‘‘এর আগে সারদা ও নারদ-কাণ্ডে সিঙ্ঘভি আদালতে তৃণমূলের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে বলেছিলাম, এ রাজ্যে কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে দেখতে চাই না। সেই কথা আবার এখন বলছি। তাঁকে আমরা বয়কট করেছি, করব!’’



