নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। ইডি সূত্রে দাবি, অর্পিতা জানিয়েছেন, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে দালালের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হত। সেই টাকা ধাপে ধাপে পৌঁছত সরকারি কর্মচারী, আমলা, নেতা-মন্ত্রীদের কাছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতে ঘুম উড়েছে রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েটের।
আরও পড়ুনঃ গ্রেফতার হওয়ার পর চরম অসুস্থ, SSKM হাসপাতালের ICCU-তে ভর্তি পার্থ চট্টোপাধ্যায়!
গতকাল থেকে একটানা জেরার পর শনিবার সন্ধেয় বেহালার বাড়ি থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ইডি আধিকারিকরা। অর্পিতার টালিগঞ্জের ডায়মন্ড সিটি সাউথের ফ্ল্যাট থেকে এখনও পর্যন্ত ২১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৭৯ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না ও প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে শিক্ষা দফতরের খাম।

এছাড়াও তিনটি সম্পত্তি রয়েছে বেলঘরিয়ায়। সেখানে অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট এবং একটি বাড়ি রয়েছে। বীরভূম জেলাতেও রয়েছে অভিনেত্রীর সম্পত্তি। ইডি বাড়ি থেকে বের করে তাঁকে গাড়িতে ওঠানোর সময় সরব অর্পিতা। সংবাদ মাধ্যমের সামনে চিৎকার করে দাবি করে, “আমি কোনও অন্যায় করিনি, এটা বিজেপির বড় চাল।” ইডি সূত্রে দাবি, কোথা থেকে পেলেন এই বিপুল পরিমাণ টাকা? কী তাঁর আয়ের উৎস? জিজ্ঞাসাবাদে এই প্রশ্নের কোনও উত্তরই দেননি অর্পিতা।

অর্পিতার আবাসনে কর্মরত এক পরিচারিকার দাবি, অর্পিতার ওই ফ্ল্যাটে মাঝে মাঝেই যেতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আবাসনের সম্পাদক অঙ্কিত চুড়োরিয়া জানান, প্রতি মাসেই অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এই আবাসনে আসেন এবং এই আবাসনে অনেক ভিআইপি লাল বাতি লাগানো গাড়ি আসত।
‘চাকরিপ্রার্থীদের থেকে নেওয়া টাকাতেই টাকার পাহাড়, জড়িয়ে একাধিক মন্ত্রী!’ কবুল করলেন অর্পিতা

জানা গিয়েছে, কলকাতার বেলঘরিয়া অঞ্চলেই রয়েছে অর্পিতার তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি বাড়ি। এছাড়াও ডায়মন্ড সাউথ সিটিতেই রয়েছে আরও চারটি ফ্ল্যাট। বেলঘরিয়া রথতলা এলাকায় “ক্লাব টাউন হাইটস” নামের আবাসনেই তাঁর দুটি ফ্ল্যাট আছে । একটি ফ্ল্যাট রয়েছে “ব্লক 2” এ ফ্ল্যাট নম্বর “2A”এবং অপর ফ্ল্যাটটি রয়েছে “ব্লক 5” এ ফ্ল্যাট নম্বর 8A।



