নিজেস্ব প্রতিনিধি আলিপুরদুয়ারঃ দোমহনিতে বিকানের এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কারণ কী? দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিকানের এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন চালক ও জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন মাষ্টারের মধ্যে কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে।
গুয়াহাটিগামী দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিকানের এক্সপ্রেস ট্রেনটি জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষন পর ময়নাগুড়ির কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তার আগে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে ঢোকার আগে এক রেল গেটে কর্তব্যরত গেটম্যান ওই ট্রেনের ইঞ্জিনের চাকায় আগুনের ফুলকি দেখতে পেয়ে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন মাষ্টারকে জানালেন সঙ্গে সঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ Train Cancellation: হাওড়া-শালিমার থেকে বাতিল একাধিক ট্রেন, জানুন তারিখ
স্টেশন মাষ্টারের তৎপরতায় বিকানের এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন চালকের সাথে ফোনে যোগাযোগ শুরু করা হয়। এবং তাঁদের কথোপকথন আজ নেট দুনিইয়ার মাধ্যমে ভাইরাল উত্তরবঙ্গে। যদিও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব পর হয়নি। তবে ভাইরাল হওয়া কথোপকথন শুনে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন বিষয়টির মধ্যে সত্যতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রেলের তরফে কোন মুখ খোলা হয়নি। তাঁদের আন অফিসিয়ালি বক্তব্য এই নিয়ে তাঁদের কোন মাথাব্যাথা নেই, ঘটনার পর তাদের তদন্ত রেলের তরফে শেষ হয়ে গেছে। এবার শুধু রিপোর্ট আসার অপেক্ষা মাত্র।
ইঞ্জিনের সমস্যার জেরেই কি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বিকানের এক্সপ্রেস? ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী নিজে। এই দুর্ঘটনার কারণ খুজে বের করতে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি-র নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে। এই আবহে দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে ইঞ্জিনটিকে খতিয়ে দেখা হবে। আর তাই ইঞ্জিনটিকে আপাতত রাখা হয়েছে নিউ দোমহনি স্টেশনে। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন পার করার কিছউ পরে ট্রেনটি ৯৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে চলছিল।

গাড়িতে আচমকা ঝাঁকুনি অনুভব করাতেই নাকি চালক প্রদীপ কুমার ব্রেক কষেছিলেন। আর এরপরই নাকি এই দুর্ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, ইঞ্জিনে যে সমস্যা রয়েছে, সেই ইঙ্গিত আগেই পেয়েছইলেন লোকো পাইলট। তিনি নাকি জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে সেই বিষয়ে জানিয়েছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে খবর দেওয়া হলেও অপেক্ষা না করে চালক ট্রেন নিয়ে কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা দেন।
এরপরই দোমহনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর দেখা যায় ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণকারী ট্র্যাকশন মোটরটি খুলে গিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, ট্র্যাকশন মোটরটি কি আগেই খারাপ হয়ে গিয়েছিল? জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে লোকো পাইটের সাক্ষাতের বিষয়টি সেই জল্পনাই উস্কে দিয়েছিলেন।
গুয়াহাটিগামী বিকানের এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার পরদিনই দোমহনিতে গিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনের লোকো পাইলটের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছিলেন যে ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এদিকে ময়নাগুড়ির সেই অভিশপ্ত ট্রেনের চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন আহতদের পরিবারের সদস্যরা।
দোমহনিতে বিকানের এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কারণ কী? ভাইরাল অডিও ক্লিপ ঘিরে চাঞ্চল্য

ময়নাগুড়ি জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জোরে ব্রেক কষার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪, ২৭৯, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই আবহে ঘটনার উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



