নজরবন্দি ব্যুরো: বহু প্রতীক্ষিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এরইমধ্যে শাসক শিবিরে ফের ভাঙন। মুর্শিদাবাদে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করেন পাঁচশো কর্মী। এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে। একদিন আগেই এই জেলাতেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এক কংগ্রেস সমর্থকের। এই ঘটনায় রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
আরও পড়ুন: বাংলায় ঢুকছে বর্ষা, একাধিক জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা? গরম কমবে কি?
শনিবার বহরমপুর জাতীয় কংগ্রেসের পার্টি অফিসে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন পাঁচশোর বেশি কর্মী। গতকাল সাগরদিঘির একটি জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর সাংসদ অধীর চৌধুরী। তৃণমূল কর্মীদের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে তিনি বলেন, “কাল আমাদের একজন কর্মীকে খুন হতে হয়েছে। তারপরই তৃণমূল কংগ্রেসের বহু কর্মী-সমর্থক বহরমপুর জাতীয় কংগ্রেসের পার্টি অফিসে এসে কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন।” রবিবার খড়গ্রাম যাচ্ছেন অধীর চৌধুরী। সেখানেও কয়েকশো তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছে বলেও জানান তিনি।

সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে সন্ত্রাস কবলিত রানিনগরে কংগ্রেসের একটি বৈঠক কর্মসূচি রয়েছে। সেখানেই প্রায় ২ হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী যোগ দেবেন কংগ্রেসে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি, ‘কেবল মুর্শিদাবাদে নয় গোটা বাংলাজুড়েই তৃণমূল ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। মানুষ তৃণমূলকে ভালোবাসছে না। তাই তৃণমূলের কর্মীরা দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করছে।’

প্রসঙ্গত, সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করা বাইরন বিশ্বাস। এরপরই শাসক দলকে নিশানায় আনতে সাগরদিঘি মডেল নিয়ে আসে বিরোধীরা। কিন্তু তিন মাসের মাথায় বাইরন বিশ্বাস তৃণমূলে যোগ দেন। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এত সংখ্যক তৃণমূল কর্মী দল বদল করায় জেলাস্তরে শাসক দলের সংগঠন দুর্বল হচ্ছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
পঞ্চায়েতের আগে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলে ধস, কংগ্রেসে যোগদান করেন পাঁচশোর বেশি কর্মী




