বাবুল নাপসন্দ, আসানসোল বিজেপিতে ধস নামিয়ে তৃণমূলে ৩০০০ নেতা- কর্মী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাবুল নাপসন্দ, আসানসোল বিজেপিতে ধস নামিয়ে তৃণমূলে ৩০০০ নেতা- কর্মী। তিনি আসানসোল থেকে বিজেপির নির্বাচিত সাংসদ। এবার বিধানসভা ভোটে টালিগঞ্জ থেকে দাঁড়িয়ে হেরে যান বাবুল সুপ্রিয়। এদিকে কিছুদিন আগেই পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়াতে পোস্টার পড়েছিল তাঁর নিখোঁজ হওয়ার। পোস্টারে জামুড়িয়ার নাগরিকবৃন্দ লেখা থাকলেও বাবুল একে তৃণমূলের কারসাজি বলেন। যদিও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল বাবুলের উপর বিরক্ত স্থানীয় বিজেপি। কারন তাঁর দেখা মেলে না আসানসোলে।

আরও পড়ুনঃ ঘোর বর্ষায় উত্তপ্ত ক্যানিং, রবিবাসরীয় হামলার দায় ISF কে দিচ্ছে তৃণমূল

মাঝে মাঝে দেখা গেলেও কর্মী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগকে জোরদার করে আসানসোল বিজেপিতে কার্যত ধস নামিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিজেপি সম্পাদক সহ প্রায় ৩ হাজার কর্মী।  এদিন আসানসোল রবীন্দ্রভবনে তৃণমূলের একটি অনুষ্ঠানে বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুলে যোগ দেন দলের আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক মদনমোহন চৌবে, বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলার বুদ্ধিজীবী সেলের আহ্বায়ক ডা. দেবাশিস সরকার সহ প্রায় ৩০ জন নেতা। একই সঙ্গে তৃণমূলে আসেন কয়েক হাজার কর্মী। রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের উপস্থিতিতে চলে এই দলবদল।

সভা থেকে মদনমোহন চৌবে বলেন, “বাবুল সুপ্রিয়র দুর্নীতির বিরুদ্ধেই আমরা সবাই দলত্যাগ করেছি। এই সাংসদ সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক দলের নেতা-কর্মীদের কথাই শোনেন না। ভোটের সময় এমন কোনও দুর্নীতি নেই, যা বিজেপি করেনি। এই বিষয়টি স্থানীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনও সুরাহা না পাওয়া যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পর্যন্ত লেখা হয় চিঠি। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। পাশাপাশি হিন্দিভাষীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে গত বিধানসভা ভোটে। কোথাও হিন্দিভাষী প্রার্থী করা হবে না এটা স্পষ্ট বলা হয়েছিল। আর এতেই অপমানিত হয়েছি। দুর্নীতির প্রতিবাদ জানাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে আমরা তৃণমূলে যোগদান করছি।”

বাবুল নাপসন্দ, আসানসোল বিজেপিতে ধস নামিয়ে তৃণমূলে ৩০০০ নেতা- কর্মী। অন্যদিকে, ডা. দেবাশিস সরকার জানান, “বিজেপি থেকে যেভাবে লোকজন তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে তাতে আর আগামী দিনে আসানসোলে বিজেপির দলীয় অফিস খোলার জন্য লোক পাওয়া যাবে না। যাঁরা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিল তাঁরাও এখন তৃণমূলেই ফিরতে চাইছে। বিজেপি এখন দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে। এখানকার সাংসদকে তো পাওয়াই যায় না। তিনি আসানসোলকে ভুলে দিল্লিতেই পড়ে থাকেন। তাঁকে খুঁজতে এলাকার মানুষ এখন পোস্টার দিচ্ছেন।” এদিকে মলয়বাবু ফের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন কিছুতেই আসানসোলের আরেক নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে তৃণমূলে ফেরানো হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন