আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় নন্দীগ্রাম থেকে এল এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় সমবায় নির্বাচনে বিজেপিকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে ১২-০ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ফল শুধু একটি সমবায় ভোটের জয় নয়, বরং রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামে ক্রমশ বদলে যাওয়া জনমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমদাবাদ সমবায় সমিতির নির্বাচনে রবিবার ভোটগ্রহণ শেষে ফলপ্রকাশে দেখা যায়, বোর্ডের সমস্ত পদেই শাসকদলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর নন্দীগ্রামে এমন ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। কারণ, এই এলাকা রাজ্য বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবেই পরিচিত।


এই জয়ের কৃতিত্ব তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি তুলে ধরছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির ঘাড়ে। গত বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে এসে অভিষেক এই প্রকল্পের সূচনা করে যান। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তার পরই মানুষের মধ্যে শাসকদলের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়। সেবাশ্রয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ, প্রশাসনিক সহায়তা ও নানা সামাজিক পরিষেবা গ্রামস্তরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তৃণমূলের বক্তব্য, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরিতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। উন্নয়ন ও সামাজিক পরিষেবার এই বার্তাই সমবায় ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি দলের। আর সেই ফলের উপর ভর করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসকদল।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও পটাশপুরের তৃণমূল বিধায়ক উত্তম বারিক বলেন, “নন্দীগ্রামের সমবায় নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্প ইতিমধ্যেই ম্যাজিক দেখাতে শুরু করেছে। আমরা আশা করি, এই ধারা বজায় থাকলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম জিতে দলনেত্রীকে উপহার দিতে পারব।”


তবে এই ফলাফলকে বড় গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। তমলুক সাংগঠনিক জেলার এক বিজেপি নেতা দাবি করেন, গত এক বছরে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় হওয়া প্রায় ৭০টি সমবায় নির্বাচনের মধ্যে ৯৫ শতাংশেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। তাঁর কথায়, “২-৩টি সমবায় নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছে, আমদাবাদও সেই তালিকায় পড়ে।” পাশাপাশি বিজেপির কটাক্ষ, “যদি এই জয় সত্যিই সেবাশ্রয় প্রকল্পের ফল হয়, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা মুখ্যমন্ত্রীকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করতে দেওয়া হোক। মানুষ আবার যোগ্য জবাব দেবে।”
সব মিলিয়ে, একদিকে তৃণমূল এই জয়কে রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপি তা খাটো করে দেখাতে ব্যস্ত। কিন্তু নন্দীগ্রামে ১২-০ ফলাফল যে আগামী বিধানসভা লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।









