বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে এলেন ৭ জন হিন্দু নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সেখানে আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। প্রাণের ভয়ে দালালদের মাধ্যমে মাথাপিছু প্রায় ২ হাজার টাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকেন তাঁরা। বর্তমানে মালদহে এক পরিচিতের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এই পরিবারগুলি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। অভিযোগ করেন, এক সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে নানা সমস্যা থাকলেও জীবনধারণ করা যেত। বিশেষ করে শেখ হাসিনার শাসনকালে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল বলেই দাবি তাঁদের। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তাঁদের বক্তব্য, শেখ হাসিনা ক্ষমতা চ্যুত হওয়ার পর থেকেই হিন্দুদের উপর নিপীড়ন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পালিয়ে আসা ওই ৭ জনের দাবি, প্রতিদিন ভয়, হুমকি ও অপমানের মধ্যে কাটছিল তাঁদের জীবন। ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছিল, কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। সেই আতঙ্ক থেকেই শেষ পর্যন্ত সব কিছু ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ভারতের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন এই বাংলাদেশি হিন্দুরা। তাঁদের আর্জি, তাঁদের যেন ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়। আবেগঘন কণ্ঠে তাঁদের বক্তব্য, “আমাদের যদি আবার বাংলাদেশে পাঠানো হয়, তার চেয়ে গুলি করে মেরে ফেললেও চলবে। আমরা আর কোনও অবস্থাতেই সেখানে ফিরতে পারব না।”
এই ঘটনায় মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এর আগেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের খবর সামনে এসেছে। তবে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে নাগরিকত্বের আবেদন জানিয়ে এমন আবেগঘন আর্তি বিরল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।









