তিন বছর ধরে পাকিস্তানের জেলে বন্দি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার তিন মৎস্যজীবী। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবারগুলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক স্তরে নড়াচড়া শুরু হয়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে এবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরাতে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
নামখানার নাদাভাঙা এলাকার বাসিন্দা তপন মহাপাত্র (৫০), কাশীনাথ মণ্ডল (৫৮) এবং দিলীপ বাগ (৪৮) গুজরাটের পোরবন্দর থেকে মাছ ধরার ট্রলারে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। ‘ব্রজভূমি’ ও ‘মানদ্বীপ’ নামে দুই ট্রলারে মাছ ধরার সময় পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে তাঁরা আটক হন। ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানের একটি জেলে তাঁরা বন্দি রয়েছেন বলে জানা যায়।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আবেদন জানানো হলেও এখনও তাঁদের মুক্তি সম্ভব হয়নি। তিন মৎস্যজীবীর পরিবার আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছিল এবং আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি নজরে আসার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী হন। প্রথমে গুজরাট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বুধবার মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার এবং কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা নামখানায় গিয়ে তিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত মুক্তির আশ্বাস দেন।


এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো আর্থিক সাহায্যও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই উদ্যোগে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বন্দি মৎস্যজীবীদের পরিবার।










