ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সৌহার্দ্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া হলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ল। দক্ষিণাঞ্চলের পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানিতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বাড়ির মালিক রণজিৎ দাস, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উত্তর বাড়ইখালি গ্রামে রণজিৎ দাসের বাড়িতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে প্রথমে লুটপাট চালায়, তারপর আগুন লাগিয়ে দেয়। বাধা দিতে গেলে গৃহকর্তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের জেরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা ‘আগুন’ বলে চিৎকার শুনে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের উদ্যোগেই কিছু সময়ের মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হলেও ঘরের বহু আসবাব ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়।
ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহম্মদ শামীম হাওলাদার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অংশ না নেওয়ায় সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ বিএনপির দিকে গিয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান সম্প্রীতির বার্তা দিলেও এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।


এদিকে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের শ্রীপুরে আওয়ামি লিগের একটি কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনাও সামনে এসেছে। মঙ্গলবার বিকেলের ওই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পরও গ্রামীণ অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ এবং কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।










