টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট—যে কোনও ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি। স্বাভাবিকভাবেই সুপার এইটের আগে প্রশ্ন উঠছে অভিষেক শর্মার জায়গা নিয়ে। তবে দলের ভেতরে কোনও উদ্বেগ নেই বলেই জানালেন ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অভিষেক এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এবং বড় মঞ্চে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন বলেই বিশ্বাস টিম ম্যানেজমেন্টের।
শুক্রবার অনুশীলনে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতে দেখা যায় অভিষেককে। কিন্তু সেটাকে স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় আলোচনাই বলে মনে করছেন মর্কেল। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “ওকে নিয়ে কোনও আলাদা আলোচনা হয়নি। অভিষেক বিশ্বমানের ক্রিকেটার। এখনও অন্যরা রান করেছে বলেই আমরা সুবিধা পেয়েছি। ও নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী রান পায়নি, কিন্তু আমরা নিশ্চিত ও খুব দ্রুত ছন্দে ফিরবে।”

মর্কেলের মতে, নেটে অভিষেক দুর্দান্ত ছন্দে ব্যাট করছেন, শুধু ম্যাচে সেই পারফরম্যান্স প্রতিফলিত হওয়াটাই সময়ের অপেক্ষা। তাঁর কথায়, “অভিষেক শুধু দলের জন্য নয়, দর্শকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসে এবং ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।”
তবে ব্যাটিং নয়, ভারতের ফিল্ডিং নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ভারত মোট ন’টি ক্যাচ ফেলেছে, যা সুপার এইটে ওঠা দলগুলির মধ্যে সর্বাধিক। যদিও তাতে ম্যাচ হারতে হয়নি, কিন্তু নকআউট পর্বে এর মূল্য চোকাতে হতে পারে বলেই সতর্ক মর্কেল। তিনি বলেন, “ক্যাচ ধরা, দু’রান আটকানো এবং বাউন্ডারি কমানো—এই ছোট বিষয়গুলোই বড় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। অনুশীলনে ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে।”
বোলিং বিভাগ অবশ্য দলের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে। স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই উইকেটশিকারিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন। মর্কেলের মতে, বরুণ একজন ‘স্ট্রাইক বোলার’, তবে তাঁকে সাহায্য করতে অন্য বোলারদেরও চাপ তৈরি করতে হবে।


বরুণের প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার প্রশংসা করে মর্কেল বলেন, “ও প্রতিটি ব্যাটারকে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে। প্রচুর প্রশ্ন করে এবং ম্যাচে সেই পরিকল্পনা কাজে লাগায়। দলের অন্য বোলাররা যেভাবে ওকে সমর্থন করছে, সেটা খুব ইতিবাচক।”
ভারতের প্রথম আট ব্যাটারের মধ্যে ছ’জন বাঁহাতি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাতে সমস্যা দেখছেন না বোলিং কোচ। তাঁর মতে, এই আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের বিরুদ্ধে বল করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ বোলাররাই বেশি চাপে থাকবে।

সব মিলিয়ে, দলের ভিতরে আত্মবিশ্বাস অটুট—এটাই স্পষ্ট মর্কেলের বক্তব্যে। এখন দেখার, সুপার এইটের মঞ্চে অভিষেক শর্মা কি নতুন করে নিজের ছন্দ খুঁজে পান।








