প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটের প্রতিশ্রুতি পেয়েই দলবদল করেছেন তরুণ নেতা। তবে সেই অভিযোগ খারিজ করে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রতীক উর নিজেই জানিয়েছেন—দল টিকিট দিলেও তিনি ভোটে লড়বেন না, বরং সংগঠনের কাজ করতে চান।
তৃণমূলে যোগদানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “কী ডিল হয়েছে? বলা হচ্ছে বিধানসভায় টিকিট পাচ্ছে। প্রতীক নিজে আমাকে বলেছে—দাদা, দল টিকিট দিলেও আমি লড়ব না। সংগঠনের কাজ করতে চাই।” তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক লাভের জন্য নয়, আদর্শগত কারণেই প্রতীক উর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিপিএম নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “একটা ছেলেকে আগেভাগেই গদ্দার বা বেইমান বলে দেওয়া হল, কারণ সে আপনাদের স্তাবক হয়নি। সিপিএম নিজেদের ঘরের ছেলেকেই চিনতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, প্রকৃত বামপন্থী সেই ব্যক্তি, যিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে চান—দলীয় সার্টিফিকেটে নয়।
আদর্শের প্রশ্নেও সিপিএমকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, “কোন আদর্শে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন? কেরলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ে বাংলায় জোট করেন কীভাবে? লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভিক্ষা বলেছিলেন কেন?” তৃণমূলের আদর্শ প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন বলেই দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে সদ্য তৃণমূল যোগী প্রতীক উর রহমানও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার নীতি বিজেপিকে আটকানো, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে রুখে দেওয়া। বিজেপিকে বাংলায় ঢুকতে দেব না—এটাই ডিল।” তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে তৃণমূলকে ‘বিজেমূল’ বলে আক্রমণ করলেও বাস্তবে এসআইআর ইস্যুতে আদালতে লড়াই করেছে তৃণমূলই।


পাল্টা সিপিএম নেতৃত্বের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতীক। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠক ও সমঝোতার মধ্যেই প্রকৃত ‘ডিল’ লুকিয়ে রয়েছে।
ভোটের আগে এই দলবদল এবং তাকে ঘিরে আদর্শ বনাম বাস্তব রাজনীতির বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









