মাত্র ৩৫ টাকার একটি লটারির টিকিট বদলে দিল পুরো জীবন। এক রাত আগেও যে পরিবার অভাবের সঙ্গে লড়াই করছিল, আজ তারা কোটিপতি। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার উচালনের চা বিক্রেতা জলি বিষয়ীর চোখে এখন নতুন স্বপ্ন— ভাড়ার ঘর ছেড়ে নিজের বাড়ি, ছেলেদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ আর স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে একটু নিশ্চিন্ত জীবন।
উচালনের বাসিন্দা জলি সংসার চালাতে মাধবডিহি থানার কাইতি এলাকায় চায়ের দোকান চালান। বড় ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র। স্বামী টুলু বিষয়ী কাজ করেন একটি রাইস মিলে। আয় সীমিত হলেও পরিবারকে নিয়ে ভাল থাকার স্বপ্ন কখনও ছাড়েননি জলি। কঠিন বাস্তবের মধ্যেও রোজকার সংগ্রামই ছিল তাঁদের জীবন।

মাঝে মাঝে লটারির টিকিট কাটতেন জলি। স্বামী টুলুর লটারি কাটার অভ্যাস একটু বেশি। গত ১৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পাশের দোকান থেকেই ৩৫ টাকার একটি লটারির টিকিট কেনেন জলি। পরদিন, ২০ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ২০ নাগাদ ফল ঘোষণা হতেই জীবনে নেমে আসে বিস্ময়— টিকিটে লেখা আছে ১ কোটি টাকার পুরস্কার।
প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি ওই দম্পতি। মোবাইলে টিকিট মিলিয়ে দেখেই চক্ষু চড়কগাছ। কিছুক্ষণ পর লটারির দোকান থেকেও ফোন আসে নিশ্চিত করতে। তখনই বাস্তবটা ধরা দেয়— সত্যিই কোটিপতি হয়ে গেছেন জলি।
জলি বলেন, তাঁর চায়ের দোকানের পাশেই লটারির দোকান। সেখান থেকেই ওই টিকিটটি কেটেছিলেন। কোনও দিন ভাবেননি, এমন করে ভাগ্য বদলে যাবে। মাত্র ৩৫ টাকার টিকিটেই যে এক কোটি টাকা জেতা সম্ভব, তা যেন এখনও স্বপ্নের মতো লাগছে।


জলির স্বামী টুলু বিষয়ীর কথায়, “আমি প্রায় প্রতিদিনই লটারির টিকিট কাটি, আমার স্ত্রী মাঝে মধ্যে কাটে। কিন্তু ও যে এই টিকিটেই কোটিপতি হবে, তা কল্পনাও করিনি। এখন আমাদের স্বপ্নগুলো পূরণ হবে। একটা জায়গা কিনে বাড়ি করব, ছেলেদের ভাল করে পড়াব।”
চায়ের দোকান থেকে কোটিপতি— জলির গল্প এখন গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অভাবের সংসারে হঠাৎ করে আসা এই সাফল্য শুধু অর্থের নয়, নতুন করে বাঁচার সাহসও এনে দিয়েছে। ৩৫ টাকার একটি টিকিট যে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, জলি বিষয়ীর জীবনই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।







