‘দুয়ারে ত্রাণ’ বণ্টন করবেন সরকারি আধিকারিকরা, দুর্নীতি এড়াতে কড়া সিদ্ধান্ত মমতার।

অবিলম্বে স্বাস্থ্য দফতর ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফের চিঠি।
অবিলম্বে স্বাস্থ্য দফতর ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফের চিঠি।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘দুয়ারে ত্রাণ’ বণ্টন করবেন সরকারি আধিকারিকরা, দুর্নীতি এড়াতে কড়া সিদ্ধান্ত নবান্নের। আমফানের ভুল আর চান না মুখ্যমন্ত্রী। চান না ত্রান বণ্টনে কোনরকম দুর্নীতি। একথা আগেই ঠারেঠারে সমস্ত সরকারি দফতরকে কড়া ভাষায় আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কদিন আগেই প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মমতা জানিয়ে দিয়েছিলেন ত্রান নিয়ে কোন প্রকার বঞ্চনা সহ্য করবেন না তিনি। সকলে যেন ঠিক মতো ত্রাণ, খাবার, ওষুধ পান সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কে বাস্তবে প্রতিফলিত করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।

আরও পড়ুনঃ নার্স – ডাক্তারদের সপ্তাহে ২-৩ দিন ছুটি, নয়া নির্দেশিকা রাজ্য সরকারের।

রাজ্যের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, কোনও পঞ্চায়েত অফিস বা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এই প্রকল্পের কাজ হবে না। কোন রেকমেন্ডেশন চলবে না। ত্রাণের জন্যে জমা হওয়া আবেদনপত্রগুলির সত্যতা যাচাই করবেন সরকারি আধিকারিকরা। যারা আবেদন জানিয়েছেন তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সশরীরে গিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন প্রত্যেকটি সরকারি দফতরে একটি ড্রপবক্স রাখতে হবে। এবং দুয়ারে ত্রাণের জন্য সবসময় বিস্তারিত তথ্য আপলোড করতে হবে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে। আগামী ৩ জুন থেকে শুরু হচ্ছে দুয়ারে ত্রাণ বিলির কাজ।

‘দুয়ারে ত্রাণ’ বণ্টন করবেন সরকারি আধিকারিকরা, দুর্নীতি এড়াতে কড়া সিদ্ধান্ত মমতার। ত্রানের সাথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন গর্ভবতী ও প্রসূতিদের দিকে। আর তাই ত্রান বিলির কাজে দলের কাউকে নয় শুধুমাত্র প্রশাসনিক দফতরগুলিকে বহাল করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রান বিলির জন্য ১০০০ কোটি টাকার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, এবার কোন বিভাগ কোন ত্রাণের দিকটি দেখাশোনা করবে এবং কোন খাতে কত করে ত্রাণ মিলবে, তার বিস্তারিত হিসেবও জানিয়ে দিল নবান্ন

কৃষি থেকে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা পর্যন্ত কোন ক্ষেত্রে কত করে ত্রাণ ধার্য হয়েছে তা লিখে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে নবান্নের তরফে। সে নোটিসের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। ৩ থেকে ১৮ ই জুন পর্যন্ত চলবে এই ত্রান বিলির কাজ।  গ্রামে গ্রামে ব্লক ক্যাম্প করবে সরকার। সেখানেই গিয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন জানাতে হবে। আগামী ১৯ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন খতিয়ে দেখা হবে।

১ জুলাই থেকে শুরু হবে টাকা দেওয়ার কাজ। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন দফতরকে কাজ বণ্টন করে তার তালিকাও প্রকাশ করেছে নবান্ন। এই তালিকা বা নির্দেশিকা অনুযায়ী শস্য নষ্ট হওয়ার খাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা অন্তত ১০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা পাবেন। কৃষি দফতর এই ত্রাণবিষয়ক দেখাশোনা করবে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতির দায়িত্ব নিয়েছে। একেবারে ভেঙে পড়া বাড়ি ঠিক করতে ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here