বিতর্কের জবাব ট্যাবলোতেই! প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা’য় কেন্দ্রকে নীরব বার্তা বাংলার

সংসদে বাংলার মনীষীদের নাম বিকৃতির বিতর্কের পর, প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলোয় বঙ্কিম থেকে নেতাজি—‘বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা’ তুলে ধরে নীরব জবাব রাজ্যের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সংসদে বাংলার মনীষীদের নাম উচ্চারণে একের পর এক বিতর্কের পর, পালটা জবাব এল রাজপথে—তাও শব্দহীন অথচ স্পষ্ট ভাষায়। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোয় ‘বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা’কে সামনে এনে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের উদ্দেশে প্রতীকী বার্তা দিল রাজ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ এক নীরব কিন্তু সুচিন্তিত সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ।

সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশনে খোদ নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলায় বিতর্কে জড়ান। তার পর কেন্দ্রীয়মন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত সাহিত্যসম্রাটকে ‘বঙ্কিমদাস’ বলে উল্লেখ করেন। এমনকি অমিত শাহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতে গিয়ে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলে ফেলেন—যা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মনীষীদের অপমানের অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।

এই প্রেক্ষিতেই এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোয় সাজানো হয়েছে এক শক্তিশালী ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ। ট্যাবলোয় শুরুতেই থাকছে ‘আনন্দমঠ’ রচনায় মগ্ন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর বিশাল মূর্তি। তাঁর পাশেই চেনা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকবেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ট্যাবলোয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ভূমিকা। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে ঘোড়ার পিঠে থাকা ঐতিহাসিক মূর্তির আদলে দেখা যাবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-কে। মেদিনীপুরের দুই গর্ব—ক্ষুদিরাম বসুমাতঙ্গিনী হাজরা—ট্যাবলোয় বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চে দৃপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুদিরাম ও তেরঙ্গা হাতে মাতঙ্গিনীর প্রতিকৃতি নজর কাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও ট্যাবলোয় স্থান পেয়েছেন চিত্তরঞ্জন দাশ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, মাস্টারদা সূর্য সেন, রাসবিহারী বসু-সহ বহু বিপ্লবী ও মনীষীর প্রতিকৃতি। ট্যাবলোয় থাকছে ঐতিহাসিক আলিপুর জেলের প্রতিরূপও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র জেলার দুই শহিদকে ট্যাবলোয় জায়গা দিয়ে, মুখে কিছু না বলেও কৌশলী রাজনৈতিক বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার।

রেসিডেন্ট কমিশনার অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব ইনফরমেশন আশিস জানা বলেন, “দেশবাসীর সামনে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর