অভিষেকের ভুয়সী প্রসংশা। মানভঞ্জন পর্ব শেষে আপাতত তৃণমূলেই থাকছেন প্রসূন।

অভিষেকের ভুয়সী প্রসংশা। মানভঞ্জন পর্ব শেষে আপাতত তৃণমূলেই থাকছেন প্রসূন।

নজরবন্দি ব্যুরো: অভিষেকের ভুয়সী প্রসংশা। মানভঞ্জন পর্ব শেষে আপাতত তৃণমূলেই থাকছেন প্রসূন। দলবদলের হওয়া চলছে বাংলায়। একাধারে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাচ্ছেন একাধিক নেতা কর্মী। কেউ আসছেন তৃণমূলে ফিরে। তবে ভোটের ঠিক প্রাক্কালে যেভাবে তৃণমূল থেকে ব্যাপক হারে নেতা মন্ত্রীরা বিজেপিতে যাচ্ছিলেন তাতে হতবাক রাজ্যের সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল থেকে যাওয়ার কথা উঠেছিল হাওড়ার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আরও পড়ুনঃ মমতাকে হাফ লাখ ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ, আগামীকাল খেজুরিতে সভা শুভেন্দুর।

প্রসূনের এই হঠাৎ দলত্যাগের কারণ জেনে গোঁসা কাটাতে আজ বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।সঙ্গে ছিলেন কুণাল ঘোষ ও। তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ কয়েকদিন আগেই শতাব্দী রায়ের মান ভাঙাতে দৌত্য চালিয়েছিলেন। তৃণমূল নেত্রী শতাব্দি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, “আমি সন্তুষ্ট। দিদির সঙ্গেই আছি।” একই ভাবে হাওড়ার সাংসদ তথা প্রাক্তন ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক। কিছুদিন আগে সংবাদমাধ্যমে মান অভিমানের কথা জানিয়েছিলেন প্রসূন। আর বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ। সৌমিত্র খাঁ জানিয়েছিলেন প্রসূন আসছেন গেরুয়া শিবিরে।

যদিও প্রসূন প্রথম থেকেই সেসব অস্বীকার করেছিলেন। তবে ক্ষোভ গোপন করেননি। কয়েকদিন আগে প্রসূন বলেছিলেন,“আমি অফসাইডে নেই। সেই ট্র্যাপে পড়ার প্রশ্নও নেই। কিন্তু আমি দলের সতীর্থদের থেকে ঠিক মতো বল পাচ্ছি না।” সেই গোঁসা ভাঙ্গতেই ছিল অভিষেক কুণালের সাথে আজকের মিটিং। যেখানে দল ছাড়ার পরের বাকি সব নেতা মন্ত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন ‘ ভাইপো ‘ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে, সেখানে মান ভাঙানোর পর প্রসূনের মুখে শোনা যায় সেই অভিষেকের প্রশংসা।

অভিষেকের সাংগঠনিক দক্ষতার এবং চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেছেন অভিষেকের কথায় খুশি তিনি। খেলার জগতের মানুষ প্রসূন, দলের হাজারো জল্পনায় কান না দিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন অভিষেক। তাতেই আবার বিশ্বাস খুঁজে পাচ্ছেন প্রসূন। শুধু তাই নয় বৈঠকের পর দলের বাকি কর্মীদের উদ্যেশ্যে প্রসূন জানিয়েছেন, এখন দলের দুর্যোগের সময়। এই সময় ছেড়ে যাওয়ার সময় নয়। সহকর্মী কুণাল ঘোষের প্রশংসা করে বলেন কুণাল চেষ্টা করছে যথাসম্ভব, দলের এবং রাজ্যের এই খারাপ সময়ে সবাই একসাথে থাকুন। তিনি এও বলেন বাংলাকে নষ্ট করতে বিজেপি আসতে চাইছে রাজ্যে। রাজ্যের মানুষের স্বার্থে দলের সকলের উচিত এই সময়ে একসাথে থাকার।

অভিষেকের ভুয়সী প্রসংশা। মানভঞ্জন পর্ব শেষে আপাতত তৃণমূলেই থাকছেন প্রসূন। মান অভিমান তুলে রাখা থাক। মমতা বন্দোপাধ্যায় পরে তা দেখবেন। এখন সময় দলকে দেখার এবং বাংলাকে দেখার। তার জন্য দরকার সকলের একসাথে থাকার। প্রসঙ্গত, দলত্যাগের হিড়িকে মানভঞ্জনের পর দলত্যাগের বাসনা এবং জল্পনা ছেড়ে আপাতত তৃণমূলেই আস্থা রাখছেন শতাব্দী রায় এবং প্রসূন বন্দোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x