লাগামহীন দূর্নীতি তৃণমূলের অন্দরে; কত কাটমানি সরকারি প্রকল্পে? পর্দাফাঁস!

লাগামহীন দূর্নীতি তৃণমূলের অন্দরে; কত কাটমানি সরকারি প্রকল্পে? পর্দাফাঁস!

বালুরঘাট ১৪ জুলাই: লাগামহীন দূর্নীতি তৃণমূলের অন্দরে; তৃনমুল পরিচালিত দক্ষিন দিনাজপুর জেলা পরিষদের মেন্টর শুভাশীষ পালের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের কাজে কাটমানি ও তোলাবাজির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।যদিও যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই শুভাশীষ পালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন তোলেন নি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
আজ বালুরঘাট শহরের জেলা বিজেপি দলের কার্যালয়ে ডাকা এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জেলা নেতৃত্বকে পাশে বসিয়ে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জেলা পরিষদের মেন্টরের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপচয়ের দুর্নীতির উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান।

আরও পড়ুনঃ তবে কি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ার মুখে?

লাগামহীন দূর্নীতি তৃণমূলের অন্দরে; বিজেপি নেতা তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার আজ জেলা পরিষদের মেন্টর তথা জেলা তৃনমুল নেতা শুভাশীষ পাল, যিনি আবার সোনা পাল নামেই জেলায় পরিচিত তার বিরুদ্ধে দুটি মোবাইলে গোপনে তোলা ভি ডিও এর ক্লিপিং (যা সোসাল মিডিয়ায় ও ভাইরাল এবং এর সত্যতা যাচাই করা যায় নি) দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে নির্মল বাংলা মিশনের শৌচালয়ের টাকা নয়ছয় ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ আনেন। তার আরও অভিযোগ মেন্টর শুভাশীষ তথা সোনা পাল কে ওই ভিডিও তে কাজ পাইয়ে দেবার ব্যাপারে ঠিকাদারদের সাথে দরকষাকষি করতে দেখা যাচ্ছে।

সেখানে তিনি বলছেন বিল পাশ করার পার্সেন্টের একটা অংশ সরকারি আধিকারিক থেকে উচ্চ মহলে এমনকি জেলা পরিষদের একাধিক পদাধিকারিককে দিতে হয়। এরপরেই বালুরঘাটের সাংসদের দাবি এতদিন এই কাটমানির বিষয়টি আমরা সোসাল মিডিয়ায় দেখে ও শুনে এসেছি। আজ আমরা আমাদের জেলায় তা কি ভাবে এই কাটমানি ও তোলাবাজি চালানো হয় তার হাতে নাতে প্রমান পেলাম বলে জানান। এরপরেই তিনি এর উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি সম্প্রতি জেলায় স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের দেওয়ার জন্য বিনা টেন্ডারে স্যানিটাইজার কেনার ও অভিযোগ করে বলেন এর সাথে জেলার অনেকে জড়িত রয়েছে তার ও তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিকে বালুরঘাটের সাংসদের দেখানো ভিডিও ক্লিপিং দুটি তে দেখা যাচ্ছে জেলা পরিষদের মেন্টর তথা তৃনমুল নেতা শুভাশীষ পাল জেলা পরিষদের মেন্টরের ঘরে স্যুট কোট পড়ে বসে কয়েকজন ঠিকাদারদের সাথে নির্মল বাংলার প্রকল্প এর কাজ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে দর কষাকাষি করছেন। এমনকি দরকাষাকষির সময় তাকে বলতে শোনা যায় কুমারগঞ্জের বিডিও নাকি ৫০০ টাকার কাজ হলে ১০০ টাকার কাজ করে বাকি ৪০০ টাকা থেকে ২০০ করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবার কথা বলেছে। তবে ভিডিও টি শিতকালে তোলা তাই সেই কুমারগঞ্জের বিডিও এখন এখানে নেই। অপরদিকে শুভাশিষ পাল নিজেও জানাচ্ছেন যারা সই করে বিল পাশ করবার অধিকারি সে বিডিও ও অনান্য উচ্চ পর্যায়ের আমলা ও দলের নেতানেত্রীদের ও দিতে হয় এই পার্সেন্টেজের টাকা। যদিও যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই শুভাশীষ পালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন তোলেন নি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

গত লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের জন্য নিচুতলার তৃনমুলের কর্মীদের দুর্নীতিই দায়ি। সেটা বুঝে গিয়েছিলেন তৃনমুল নেত্রী। তারপরেই ফলাফল বিশ্লেষন করে নেতা কর্মীদের স্বচ্ছ থাকার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি গত বছর নজরুল মঞ্চ থেকেও কর্মী তথা দলের কাউন্সিলর দের শুদ্ধি করনের ডাক দেন তিনি।তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, দলের কোনও নেতা যদি কাটমানি নেন, তাহলে বরদাস্ত করবেন না তিনি। যাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল উঠবে, তাঁকে রেয়াত করা হবে না। তিনি বলেন, “কোনও প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়া চলবে না৷তিনি আরও বলেছিলেন “কোনও প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়া চলবে না৷ কেন সরকারি প্রকল্প থেকে ২০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে? বাংলার আবাস প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার কাটমানি নিতে হবে? সমব্যথী প্রকল্পের ২ হাজার থেকেও ২০০ টাকা নিতে হবে? এই সব করবেন না৷

যারা নিয়েছেন, ফিরিয়ে দিন৷”মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টা ঘুরতে না ঘুরতেই নানা জায়গা থেকে সাধারন মানুষদের মধ্যে থেকে কাটমানি ফেরানোর দাবি ওঠায় দল অস্বস্তিতে পড়ে যায়।
সেই কাটমানি আর তোলাবাজি যে এখনও বর্তমান তা আজকের বিজেপি সাংসদের তোলা দুটি ভিডিও ক্লিপিং থেকেই পরিষ্কার। যদিও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তবে এই ঘটনা জানাজানির পর দল যে অস্বস্তিতে পড়বে তা ধরে নেওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x