টাকা লুঠছে চিকিৎসার নামে, এক মালিকের তিন নার্সিংহোম বন্ধ করলো স্বাস্থ্য কমিশন

টাকা লুঠছে চিকিৎসার নামে, এক মালিকের তিন নার্সিংহোম বন্ধ করলো স্বাস্থ্য কমিশন
টাকা লুঠছে চিকিৎসার নামে, এক মালিকের তিন নার্সিংহোম বন্ধ করলো স্বাস্থ্য কমিশন

নজরবন্দি ব্যুরোঃ টাকা লুঠছে চিকিৎসার নামে, এই অভিযোগ ঘুরে ফিরে উঠছিলো বহু দিন ধরেই। করোনা বিপর্যয়ে বিধ্বস্থ সাধারণ মানুষ। ভয়ে-আতঙ্কে- অক্সিজেন-বেডের অভাবে লড়াই চলছে বেঁচে থাকার। তার মধ্যেই হাজার হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে সব জায়গায়।

আরও পড়ুনঃ জরুরি পরিস্থিতিতে বাতিল মন্ত্রীসভার বৈঠক, নিজাম প্যালেস থেকেই মুখ্যসচিবকে নির্দেশ মমতার

পরিস্থিতির সুযগ পেয়ে লম্বা বিল দিচ্ছে হাস্পাতাল কর্তৃপক্ষ, অ্যাম্বুলেন্স হাঁকছে বড়ো অঙ্কের ভাড়া। মারা গেলেও ধাপার মাঠে যেতেই নিচ্ছে বেশ হাজার খানেক টাকা, তার পরেও সেখানে আরও কয়েক হাজার। অক্সিজেন থেকে অসুধ হয় পাওয়া যাছহেনা, কিম্বা বাইরে কিনতে গেলে ফিক্সড প্রাইস নেই, নিজেদের মত দাম নিচ্ছেন। এশব একাধিক অভিযোগ জমছিলো বেশ কয়েকদিন ধরেই।

অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রোজ বড়ো অঙ্কের বিলে হাতে পেতে হচ্ছে রোগীর পরিবার গুলিকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার একই মালিকের তিন নার্সিংহোম বন্ধের নির্দেশ দিলো স্বাস্থ্য কমিশন, বেহালার অ্যাপেক্স হাসপাতাল,, পার্ক সার্কাসের গুড সামারিটান  এবং নিউটাউনের উজ্জীবন হাসপাতাল ওই বেসরকারি তিন হাসপাতালে আপাতত কোভিড রোগী ভর্তি বন্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

করনার প্রথম ঢেউয়ের সময় একই ঘটনা ঘটেছিলো শহরের একাধিক নার্সিং হোমের সঙ্গে। কিন্তু তা থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় সেকন্ড ওয়েভের মুখে কমিশনেরর নির্দেশের মুখে পড়তে হয়েছে তিন নার্সিংহোমকে। গত কয়েকদিন ধরেই বেহালা, পার্ক সার্কাস এবং নিউটাউনের ওই তিন হাস্পাতালের চিকিৎসার নামে বিশাল অনবকের টাকার বিলের কথা ঘুরছিলো সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরেই সেই অভিযগ গুলি একত্রিত করে  তিন হাসপাতালের বিরুদ্ধে তাঁরা মামলা রুজু করা হয়েছে  বলে জানিয়েছেন রাজ্য হেল্থ রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার বন্দোপাধ্যায়।

ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রথম ওয়েভের সময়েই সতর্ক করা হয়েছিলো, কোন নার্সিংহোমের বিলের কারণে কোন রোগীর পরিবার যাতে হয়রানির শিকার না হয়,  তার পরেও দ্বিতীয় ওয়েভের মুখেই একাধিক হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে অতিরিক্ত বিলের। এই ধরনের অভিযোগ হাল্কা ভাবে নেওয়া হবে না। তাই নেট্মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগ গুলিকে একত্রিত করে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু  এবং আপাতত নার্সিংহোম গুলিতে রোগী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দিল রাজ্য হেল্থ রেগুলেটরি কমিশন।

টাকা লুঠছে চিকিৎসার নামে, সূত্রের খবর ওই নার্সিংহোম গুলির বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ গুলি একত্রিত করে পাঠানো হয়েছে ওই তিনটি হাসপাতালের কাছে, এবং মঙ্গলবারের  মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য কমিশনের তরফ থেকে।  সঙ্গে কপ্রনা ছাড়া অন্য রোগীদের ক্ষেত্রে কী বিল দেওয়া ভয়, এবং সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়া রোগীদের বিলও চেয়ে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য ওই তিন নার্সিংহোমে মোট ৩০৮ টি শয্যা আছে, এবং তার মধ্যে ১৮০ টি শয্যা বরাদ্দ ছিলো করোনা রোগীদের জন্য। তবে আপাতত রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে ওই হাসপাতাল গুলিতে।

উল্লেখ্য এই কঠিন পরিস্থিতিতে  কোভিড চিকিৎসায় পিপিই ছাড়াও দৈনন্দিন ডাক্তারের ফিজ বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকারনির্দেশ অনুযায়ী , PPE-সহ রোগীর অন্য সুরক্ষা বাবদ দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসকদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা নিতে পারবে হাসপাতাল। তার সঙ্গেই কোভিডের আগের পরিস্থিতির থেকে কোন ভাবেই হাসপাতালের বেড ভাড়া বাড়ানো যাবেনা বলেও বলা হয়েছিলো নির্দেশিকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here