নিজের বেতনের টাকা দিয়ে করোনা রোগীদের হাতে ওষুধ ও খাদ্য তুলে দিচ্ছেন এই শিক্ষক

নিজের বেতনের টাকা দিয়ে করোনা রোগীদের হাতে ওষুধ ও খাদ্য তুলে দিচ্ছেন এই শিক্ষক
নিজের বেতনের টাকা দিয়ে করোনা রোগীদের হাতে ওষুধ ও খাদ্য তুলে দিচ্ছেন এই শিক্ষক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা দাপটে ফের বন্ধ রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাড়িতে বসেই প্রতিমাসে বেতন পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু এ যে পছন্দ নয় পূর্ব মেদিনীপুরের এই মাস্টার মশাইয়ের। কাঁথির কুলাই পদিমা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন শ্যামল জানা। কাজ না করেই বেতন পাচ্ছেন। তাই সেই টাকা দিয়ে ওষুধ ও খাবার কিনে পৌছে দিচ্ছেন আক্রান্তদের কাছে।

আরও পড়ুনঃ বাড়িতে বসেই পাবেন, ২১ তারিখ থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে ‘ফ্রি’ রেশনের হোম ডেলিভারি।

আর এই কাছে তাকে সাহায্য করছেন স্ত্রী মণিকা জানা। অসহায়রা যাতে তার সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ফোন নম্বর দিয়ে রেখেছেন। কাঁথি ও কাঁথি সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকারা মানুষ ফোন করছেন। আর ফোন পাওয়া মাত্র পৌঁছে যাচ্ছেন শ্যামল। জানা গিয়েছে, শ্যামল জানা প্রায়ই এমন সমাজসেবা মূলক কাজ করে থাকেন।

এমনকি কলকাতায় ডাক্তার দেখানোর সূত্রে এলেও নিজের ব্যাগে স্লেট, খাতা, পেন, পেনসিল নিয়ে আসেন। সেগুলি পথ শিশুদের মধ্যে বিতরণ করে দেন। বেড়াতে গেলেও আলাদা ব্যাগে দুস্থ মানুষদের জন্য পোশাক, খাবার নিয়ে যান।
দুস্থদের পোশাক, গরিব ছেলে মেয়েদের খাদ্য, নিঃসন্তান বৃদ্ধ মানুষদের খাদ্যসামগ্রী, গরিব পরিবারের কন্যাসন্তানের বিয়ে এই রকম নানা ভাবে মানুষেত সাহায্য করেন এই মাস্টার মশাইয়।

কৃষকদের চাষের বীজ, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ত্রিপল,খাদ্য সামগ্রী দিয়েও সাহায্য করে থাকেন। গ্রামীন স্ব-রোজগার প্রকল্পের মহিলারদের ছাগল ছানা ও মুরগি ছানা উপহার দিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করেছেন শ্যামল। আবার প্রয়োজনে নিজের রক্ত দান করে জীবন বাঁচিয়েছেন রোগীদের। এই স্কুল শিক্ষক পরিবেশ প্রেমিও বটে।

সময় পেলেই চলে যান কাঁথি সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর তীরে। সমুদ্রের ধারে পড়ে থাকা প্লাস্টিক কুড়িয়ে বর্জ্যমুক্ত করেন। এই সমস্ত কাজের জন্য শ্যামল জানাকে সাধারণতন্ত্র দিবসে কাঁথি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাঁথি মহকুমা শাসক ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কোভিড যোদ্ধা সম্মানে ভূষিত করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here