পাগলামোর সীমা থাকা উচিত, ‘সবজান্তা’ মমতাকে নজিরবিহীন তোপ সুজনের।

পাগলামোর সীমা থাকা উচিত, ‘সবজান্তা’ মমতাকে নজিরবিহীন তোপ সুজনের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পাগলামোর সীমা থাকা উচিত, ‘সবজান্তা’ মমতাকে নজিরবিহীন তোপ সুজনের। রাজ্যের হাতে গোনা ২ – ৩ টি জেলা বাদ দিয়ে সব জেলাতেই কার্যত বায়ুবেগে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। প্রায় প্রতিদিনই তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। কার্যত নজিরবিহীন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য। তার ওপর আজ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যে শুরু হয়েছে গোষ্ঠী সংক্রমণ তাই সপ্তাহে দুদিন করে লকডাউন পালন করা হবে। এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কার্যত তুলোধোনা করলেন সুজন চক্রবর্তী।

আরও পড়ুনঃ ২১ জুলাইয়ের সভা, করোনা আবহে কিভাবে শুনবেন দিদির ভাষণ? জেনে নিন।

পাগলামোর সীমা থাকা উচিত, ২ দিন লকডাউন প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পাগলামোর সীমা থাকা উচিত। সবজান্তা মুখ্যমন্ত্রীর রাজত্বে বিপদ বাড়ছেই। সপ্তাহে দুদিন লকডাউনের মানে কি? বাকি ৫ দিন কি করোনার লকডাউন? কোন জাতীয় অঙ্ক এসব? কার বুদ্ধি? আবারও বলছি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। তাদের ডাকুন, ভরসা করুন – মাননীয়া।’’ ঠিক কি বলেছেন সুজন চক্রবর্তী দেখুন ভিডিও।

রাজ্যে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ, এবার থেকে সপ্তাহে ২ দিন কড়া লকডাউন পালন হবে রাজ্যে বলে জানানো হয়েছে নবান্নের তরফে। আজ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ‘‘চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শনিবার সম্পূর্ণ লকডাউন। পরের সপ্তাহে আপাতত বুধবার সম্পূর্ণ লকডাউন।’’ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্যে কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’’ তার কথায়, ‘‘বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে যে, রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে।’’

গতকাল বুলেটিনে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে রাজ্যে গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৭৮ জন! নতুন ২ হাজার ২৭৮ জন আক্রান্ত কে নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৪৮৭ জন।পাশাপাশি মৃত্যুমিছিলও অব্যাহত রয়েছে রাজ্যে। বুলেটিনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে সার্বিক ভাবে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু বেড়েছে আরও ৩৬ টি। যা রেকর্ড এবং এখন পর্যন্ত রাজ্যে সর্বোচ্চ। ৩৬ জন কে নিয়ে রাজ্যে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১২। রাজ্য জুড়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৩৪৪ জন। এদিনের ১৩৪৪ জন কে নিয়ে রাজ্যে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৪ হাজার ৮৮৩ জন।

এদিন ১৩৪৪ জন সুস্থ হয়ে রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৮.৫৬ শতাংশ করোনা আক্রান্ত। যা ক্রমাগত কমে নেমে এসেছে প্রায় ৮ শতাংশ । গত ৭ তারিখে রাজ্যে সুস্থতার হার ছিল ৬৬.২৪ শতাংশ।অন্যদিকে এই মুহুর্তে রাজ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯২ জন।অর্থাৎ গতকালের থেকে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত বেড়েছে ৮৯৮ জন! পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় টেস্ট হয়েছে ১৩ হাজার ৪৭১। এখন পর্যন্ত রাজ্যে সর্বমোট টেস্টের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৩ হাজার ২৮৪। প্রতি ১০ লক্ষ মানুষ পিছু রাজ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ৮১৪ জনের। কার্যত করোনার তাণ্ডব রাজ্য জুড়ে!

অন্যদিকে রাজ্যে ব্যাপক আকারে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা। রাজ্যের কন্টেনমেন্ট জোন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৩৯ টি। যার মধ্যে সবথেকে বেশি কনটেনমেন্ট জোন বৃদ্ধি পেয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ১১৩ টি। কলকাতার ক্ষেত্রে কনটেনমেন্ট জোন ৩২ টি। উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যভবনে ইন্টিগ্রেটেড হেল্পলাইন চালু হচ্ছে করোনা মোকাবিলায়। ৬০টি ফোনে কথা বলতে পারবেন সাধারণ মানুষ। ১৮০০৩১৩৪৪৪২২২ এবং ০৩৩-২৩৪১২৬০০। টেলিমেডিসিনের হেল্পলাইন ০৩৩-২৩৫৭৬০০১। কলকাতায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা ০৩৩-৪০৯০২৯২৯।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *