তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত রাজীবের, সৌমিত্র বলছেন কুকুরের মতো থাকতে হবে!

তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত রাজীবের, সৌমিত্র বলছেন কুকুরের মতো থাকতে হবে!
তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত রাজীবের, সৌমিত্র বলছেন কুকুরের মতো থাকতে হবে!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত রাজীবের, ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগেই দলে থেকে ঠিকঠাক কাজ করতে না পারার জন্য ঘাসফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে টিকিট পেয়ে গেরুয়া শিবিরের জার্সিতে লড়েছিলেন। সভা থেকে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা অল্প বাড়লেও রইলো লাখের নীচেই, কমছে মৃত্যু হারও

ভোটের ফল বেরোনর পর থেকেই সেই রাজীব একপ্রকার চুপ। বেশ কয়েকদিন মুখে কুলুপ এঁটেই ছিলেন। ভোটের আগের আরও একাধিক দলবদলুর তৃণমূলে ফেরা দেখে তালিকায় অনেকেই তাঁর নাম যোগ করেছিলেন বারবার। আর সেসব জল্পনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতকালের একটি পোস্ট।

প্রাক্তন বনমন্ত্রী গতকাল লেখেন, “সমালোচনা তো অনেক হল। মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না। আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ইয়াস- এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।”

এই মুহুর্তে বিজেপির নেতারা বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসাকে আন্দোলনের হাতিয়ার করেছেন। বারবার অভিযোগ, প্রচারের পর রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন বিজেপির ১৮ জন সাংসদ। গতকাল দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখেও ৩৫৬ ধারার কথা শোনা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে গেরুয়া শিবিরের হারের পর তা মেনে না নিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসাকে যেভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে ব্যবহার করছে নেতা মন্ত্রীরা, তা মানতে পারেননি রাজীব।

রাজীবের পোস্টের পরেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল পুরানো ঘরে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দফলের থেকে গ্রিণ সিগন্যাল আসেনি এখনও। তাই একপ্রকার চুপ ছিলেন। এদিকে গতকাল দিলীপ ঘোষ যখন দল বিরোধী পোস্টের জন্য কমিটি গঠন করলেন,  তখন সেই বৈঠকে আত্মীয়র অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন রাজীব, আর তার ঘন্টা কয়েক পরেই রাজীব জানালেন বাংলায় ৩৫৬ ধারার জুজু দেখাচ্ছে বিজেপি।

রাজীবের এই পোস্ট ঘিরে গত কয়েক ঘন্টায় রীতিমত চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। মাত্র কয়েক মাসেই মোহভঙ্গ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। এদিকে এক সময়ে তৃণমূলে এবং বর্তমানে গেরুয়া শিবিরের সহকর্মী সৌমিত্র খাঁ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, ‘৪২হাজার ভোটে হারার পর মনে পড়লো? বিজেপির ৪২জনের বেশি কর্মীরা মারা গেছে,তখন চুপ থাকা মানে শাসক  দলকে সমর্থন করা।মোদি সরকার করোনার জন্য ফ্রি তে ভ্যাকসিন,অক্সিজেন ও সব রকম সাহায্য করছে।আর ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের  জন্য মোদি জি নিজে এসেছেন। ৪০০কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যেকে।”

তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত রাজীবের, সেই প্রসঙ্গেই ট্যুইটের পরেও রাজীব প্রসঙ্গে সৌমিত্র জানান, “যাদের মেরুদণ্ড নেই, তাঁরা তৃণমূলে যাবেন, তৃণমূলে গিয়ে কুকুরের মতো থাকতে হবে, আমি সেটাকে সমর্থন করিনা।” অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত, যে কর্মীরা তাঁর জন্য নির্বাচনে লড়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here