শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সঙ্কট এখনও কাটেনি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের।

শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সঙ্কট এখনও কাটেনি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা আগের থেকে কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সঙ্কট একেবারেই কাটেনি। গত ২ দিন ধরে প্রায় একইরকম রয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা। কিংবদন্তি অভিনেতার রেনাল ফাংশানের উন্নতির জন্য ডায়ালিসিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা। বেলভিউ হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডা. অরিন্দম কর জানিয়েছেন, প্রথম দফায় ২-৩টি এপিসোডের ডায়ালিসিস করা হবে।

আরও পড়ুনঃ ঋদ্ধিমান ঝড়ে প্রবল ভাবে বিপর্যস্ত টেবিলের সেকেন্ড বয় দিল্লী।

এদিন ডা. কর জানান, নতুন করে সৌমিত্রবাবুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি যেমন হয়নি, তেমনই পরিস্থিতির অবনতিও হয়নি। তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ করা গিয়েছে। হিমোগ্লোবিন-সহ অন্যান্য বিষয়গুলিও স্থিতিশীল। গত ২৪ ঘণ্টায় ১.৫ লিটার ইউরিন হয়েছে। তবে রেনাল ফাংশানের উন্নতির প্রয়োজন। এর জন্য ২-৩টি এপিসোডের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ কমবে। যার ফলে আচ্ছন্নভাব কিছুটা হলেও কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেলভিউ হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপরে সর্বক্ষণ নজর রাখছে তাঁর জন্য নিযুক্ত মেডিক্যাল টিম। গত ২২ দিন ধরে মিন্টো পার্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অশীতিপর সৌমিত্র। সোমবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রবীণ অভিনেতাকে ‘এন্ডোট্র্যাকিয়াল ইনটিউবেশন’ তথা ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ অনেক বেশি।

অণুচক্রিকা কম থাকায় রক্তও দিতে হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রবীণ অভিনেতার এক্স-রে রিপোর্টে নতুন ‘প্যাচ’ দেখা দিয়েছে। সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া সংক্রমণ হয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বয়স এবং কো-মর্বিডিটি তাঁর চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রক্তে হিমোগ্লোবিন এবং অণুচক্রিকার পরিমাণ কম থাকায় আগেই করা হয়েছে ব্লাড ট্রান্সফিউশন। শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের পরিমাণ ওঠানামা করছে এখনও। প্রসঙ্গত, করোনা-আক্রান্ত অবস্থায় সৌমিত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

চিকিৎসাতেও সাড়া দিতে থাকেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থা আবার সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণে তারতম্য হওয়ায় মাঝে মাঝেই তাঁকে বাইপ্যাপ সাপোর্ট দিতে হচ্ছিল। এ বার তাঁকে দিতে হল ভেন্টিলেশনে। সৌমিত্রের শারীরিক জটিলতা বাড়িয়েছে মস্তিষ্কে সংক্রমণ অভিঘাত (কোভিড এনসেফ্যালোপ্যাথি) এবং স্নায়বিক অবস্থা।

এই পরিস্থিতিতে তাঁর চেতনার মাত্রা ক্রমশ নামছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে নতুন করে স্নায়বিক সমস্যার অবনতি হয়নি। চিকিৎসকদের বক্তব্য, আচ্ছন্ন চেতনায় মস্তিষ্কে সংক্রমণের অভিঘাতে রোগীর বয়স ও আনুষঙ্গিক রোগগুলি বিপজ্জনক হতে পারে। হাসপাতালের দাবি, স্নায়ুরোগ বিশারদ-সহ সব চিকিৎসক সৌমিত্রবাবুর চেতনা ফেরাতে ইনটিউবেশনের তথা ভেন্টিলেশনের উপরেই নির্ভর করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x