‘মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন শুধু বৈশাখীর সঙ্গে থাকবেন বলে,’ বিস্ফোরক মন্তব্য শোভন-পত্নীর।

‘মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন শুধু বৈশাখীর সঙ্গে থাকবেন বলে,’ বিস্ফোরক মন্তব্য শোভন-পত্নীর।

নজরবন্দি ব্যুরো: মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন শুধু বৈশাখীর সঙ্গে থাকবেন বলে,’ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে এমন বেফাঁস কথাই বলে ফেললেন শোভন পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলর না করলে কোথায় থাকতেন শোভন? উনি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন, স্রেফ বৈশাখীর সঙ্গে থাকবেন বলে। এর পিছনে কোনও আত্মত্যাগ নেই।’

আরও পড়ুন: সাত সকালেই অপসারণ, শুভেন্দুর সৌজন্যে মমতার আস্থা হারালেন শিশির

গতকাল বিজেপির মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শোভন-বৈশাখী। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সুপ্রিমোকে আক্রমণ করে শোভন বলেন, ‘মন্ত্রী থাকাকালে তাঁকে অপদস্থ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে দেননি বলেও অভিযোগ শোভনের। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার দাবিকে তুলে ধরেও মুখ্যমন্ত্রীকে সোমবার বিঁধে দাবি করেন, ‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।’ ছাড়েননি ডায়মণ্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কেও। নাম না করে ‘সোনার গোপাল’ বলে অভিষেককে কটাক্ষ করেন শোভন।

মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন শুধু বৈশাখীর সঙ্গে থাকবেন বলে , দীর্ঘদিন বিজেপিতে যোগ দিলেও সক্রিয় ভাবে না দেখতে পাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর একদা প্রিয় ‘কানন’ শোভন চট্টোপাধ্যায় গতকাল বান্ধবী বৈশাখীকে পাসে নিয়ে গোলপার্কে বিজেপির সভায় যোগ দেন। আর সভা থেকেই তৃণমূল তথা অভিষেককে তীব্র ভাষায় আক্রমন করেন তিনি। অভিষেককে নাম না করে ‘সোনার গোপাল’ বলে কটাক্ষ করেন। তার জন্য চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল খারাপ হবে বলেই দাবি তাঁর। সভা থেকে প্রিয় দিদির জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন শোভন। তিনি বলেন ‘আমি যখন তৃণমূলে ছিলাম এমন ছিল না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে। ‘

উল্লেখ্য, মিল্লি আল আমিন কলেজে অধ্যাপনা করার সময় বারবার হেনস্তার অভিযোগ করেন বৈশাখী। অভিযোগ, সরকারকে জানানো সত্ত্বেও তা মেটেনি। পরে তাঁকেই ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয় সরকার। দু’জনেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সমস্যা আরও বাড়ে। অধ্যক্ষের পদে ইস্তফা দেন বৈশাখী। যদিও তা গৃহীত হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়নি। এরপর মিল্লি আল আমিন থেকে রামমোহন কলেজে বদলি করা হয় তাঁকে। তবে সেই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি বৈশাখী। ‘বাধ্য হয়ে’ শিক্ষকতা ছাড়েন বৈশাখী। এই ইস্যুতেও আরও একবার সুর চড়ান শোভন। বৈশাখীর হেনস্তাকারী অভিযোগে ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করেন। ঠিক কী কারণে একাধিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বৈশাখীকে। তার সম্ভাব্য কারণও উল্লেখ করেন শোভন। তাঁর কথায়, ‘ আমার যন্ত্রণা, দুঃখ হয়। আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বৈশাখীকে।’

তবে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য কতটা চাপ ফেলবে শোভন-বৈশাখীর ওপর, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x