বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তুঙ্গে। কিন্তু এখনই অন্য দল থেকে কাউকে দলে নিচ্ছে না গেরুয়া শিবির। ঠিক কোন তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা খুলবে, আর কারা বাদ পড়বেন— তা নিয়ে প্রথমবার স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
ভোটের ফল প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, এবার কি তৃণমূল ছেড়ে একের পর এক নেতা বিজেপিতে যোগ দেবেন? কিন্তু সেই সম্ভাবনায় আপাতত জল ঢেলেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।


শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অন্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে শমীক বলেন, “অনেকেই এখন বিজেপিতে আসতে চাইছেন। কেউ যদি আসতে চান, দল নিশ্চয়ই চিন্তাভাবনা করবে। কিন্তু এখন নয়।” এরপরই তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, কোন ধরনের নেতাকর্মীদের বিজেপি গ্রহণ করবে না।
রাজ্য বিজেপি সভাপতির কথায়, “যারা সিন্ডিকেটে ছিল, কয়লা-বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল, চাকরি বিক্রির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে— তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা থাকবে না।”


তবে একই সঙ্গে তৃণমূলের একাংশের প্রতি সহানুভূতির বার্তাও দিয়েছেন তিনি। শমীকের দাবি, তৃণমূলের মধ্যেই এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যারা অতীতে দলের ভিতরে থেকেও মুখ খুলতে পারেননি বা প্রতিবাদ করে চাপে পড়েছিলেন।
তাঁর কথায়, “অনেকেই পরিস্থিতির কারণে কথা বলতে পারেননি। আবার কেউ কেউ কথা বলে দলের রোষের মুখে পড়েছেন। তাঁরা যদি যোগাযোগ করেন, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।”
এরপরই ওঠে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— বিজেপি কি ‘ভালো তৃণমূল’ আর ‘খারাপ তৃণমূল’-এর মধ্যে পার্থক্য করছে? উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি বলেন, “ভালো-খারাপ বিচার করার মালিক আমরা নই। রামকৃষ্ণ, সারদাদেবীও বলেছেন ভালো-খারাপ বলে কিছু নেই। আমার চোখে সবাই ভালো।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীকের এই মন্তব্যে একদিকে যেমন দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ানো নেতাদের দূরে রাখার বার্তা রয়েছে, তেমনই তৃণমূলের ‘অসন্তুষ্ট’ অংশের জন্য ভবিষ্যতের দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না বিজেপি।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



