টুইট থেকে FIR, তথাগত থেকে দিলীপ, সায়নী বিতর্কের মোড় ঘুরছে প্রতি বেলায়।

টুইট থেকে FIR, তথাগত থেকে দিলীপ, সায়নী বিতর্কের মোড় ঘুরছে প্রতি বেলায়।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ টুইট থেকে FIR, তথাগত থেকে দিলীপ, সায়নী বিতর্কের মোড় ঘুরছে প্রতি বেলায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তার থেকে ছাড় পাচ্ছেনা মানুষের ব্যাক্তিগত জীবন ও। রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলার বা প্রশ্ন করার অধিকারও থাকছেনা মানুষের। এই মুহূর্তে বাংলার চলচিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়নি ঘোষ। অভিনয়ের পাশাপাশি বুদ্ধিদীপ্ত কাজ বা কথার মাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছেন সামনের সারিতে। সেরকম ভাবেই একটি সংবাদ মাধ্যমের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজনীতি এবং সমকালীন বাংলার পরিবেশ পরিস্থিথি এবং বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তারপর থেকেই শুরু হয় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি।   

আরও পড়ুনঃ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু বার্নপুর স্টিল প্লান্টের হাসপাতালে, কি ভাবে করবেন আবেদন।

সায়নী বলেছিলেন, ”যে ভাবে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। উপরন্তু, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালবেসে বলা উচিত।” ব্যাস তারপরই শুরু হয়ে যায় বাকবিতন্ডা। টুইট পাল্টা টুইটে উঠে এসেছে সায়ানির পুরনো পোস্ট। প্রকাশ্যে এসেছে  ২০১৫ সালে সায়নীর করা একটি টুইট। সেই টুইট শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরাতে দেখা যাচ্ছে এক মহিলাকে। ওই ছবিতে তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারায় সায়নীর বিরুদ্ধে কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ জানান বিজেপি নেতা তথাগত রায়। অভিযোগ করার আগে তিনি টুইট ও করেন এরপরই সায়নীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তথাগত রায় আবার লেখেন, ‘মিস সায়নী ঘোষ, আপনি শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরিয়েছেন যা কিনা আমার মতো হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র। ভারতীয় ২৯৫এ ধারার (ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীর ভাবাবেগে আঘাত হানা) ভিত্তিতে আপনি অপরাধ করেছেন। গুরুতর ও অ-জামিনযোগ্য এই অপরাদের জন্য জরিমানার পাশাপাশি ৩ বছরের জেল হয়। সুতরাং ফল ভোগ করার জন্য তৈরি থাকুন।’

জল অন্যদিকে গড়াতে দেখে টুইট ডিলিট করেন সায়নী। বলেন

২০১৫ সালে করা এই টুইট নিজের অগোচরে ছিল। কারণ সেই সময় তাঁর অ্যাকাউন্টটি কোনও কারণে হ্যাক হয়েছিল। সেই সময় করা হয়ছিল এই টুইট। তবে ২০১৭ সালে অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়ার পর অধিকাংশ বিতর্কিত পোস্ট ডিলিট করা হয়ছিল। আসলে এড্‌স সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে তৈরি হয়েছিল শাড়ি পরিহিত অ্যানিমেটেড বুলাদি।যা সকলের কাছেই যথেষ্ট পরিচিত মুখ।  ১৯৯৮ সালের পর কনডোম ব্যবহারের সচেতনতা প্রচারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জনতার সামনে এনেছিল অ্যানিমেটেড ‘বুলাদি’কে। স্বাস্থ্যের প্রচার করা ‘বুলাদি’কে নিয়ে এর আগেও হয়েছে একাধিক বিতর্ক। এবার সেই সেই ‘বুলাদি’ চরিরত্রতেও লেগেছে রাজনীতির রঙ।

টুইট থেকে FIR, তথাগত থেকে দিলীপ, সায়নী বিতর্কের মোড় ঘুরছে প্রতি বেলায়।রাজনীতির শেষ এখানেই নয়, একদিকে জখন সায়নীকে নিয়ে তোপ দাগছেন তথাগত রায়, তখন আবার পাশে দাঁড়িয়েছেন দিলিপ ঘোষ। রবিবার সকালে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে যে কেউ কমেন্ট করতেই পারে। তার সঙ্গে বাগযুদ্ধে জড়ানোর দরকার নেই।’

এসব তো গেলো রাজনীতির বিষয়, কিন্তু এসবের মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে সায়নীর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে। তাঁর অভিনীত বেশকিছু দৃশ্যের ছবি নিয়ে এবং তাঁকে নিয়ে নানা ভাবে ট্রোল করা হচ্ছে। তাহলে কি সায়নীর তোলা প্রশ্নই ঠিক? রাজ্যে কি মানুষ পাচ্ছেনা সুস্থ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা বা বাঁচার জন্য? প্রশ্ন ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহলকে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x