বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার সব্যসাচী দত্ত— সোমবার রাতে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে তাঁকে নিজের বাড়ি থেকেই আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী বিধাননগর উত্তর থানায় এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সব্যসাচী দত্ত তাঁর কাছে তোলা দাবি করেছিলেন এবং খুনের হুমকিও দিয়েছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ।


তদন্তের সূত্র ধরে সন্ধ্যায় সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয় বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যানকে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের একাধিক মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর নামও উঠে এসেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি আদালতে দাবি করেছে, পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়ম হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় সুজিত বসু ও কয়েকজন কাউন্সিলরের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়ের বয়ানকেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।


অন্যদিকে, তোলাবাজি ও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যপ্রমাণ খোঁজার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়।
তল্লাশির সময় স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে একটি ডিজিটাল লকার এবং একটি গোপন ঘরের সন্ধান মেলে। লকারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তালা-চাবির মিস্ত্রির দীর্ঘ চেষ্টাতেও সেটি খোলা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তের অগ্রগতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



