সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে ব্যাপক সমালোচনা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে ব্যাপক সমালোচনা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের

নজরবন্দি ব্যুরো: ফের বিস্ফোরক দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ পাবে প্রণববাবুর বই। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়েই সমালোচনা করা হয়েছে তাঁর বইয়ে। সে কংগ্রেস হোক, বিজেপি অথবা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কিছু কথায় ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী। এই আত্মজীবনীর শেষখণ্ডে সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়ে অত্যধিক প্রচার করেছিলেন বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে শুরু গুরুং ম্যাজিক, তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামলেন বিমল

সার্জিকাল স্ট্রাইক সম্পর্কে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, পাকিস্তানি সেনার আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। প্রণববাবুর কথায়, “২০১৬ সালের সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়ে অত্যধিক মাতামাতি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টা এত প্রচার করে ভারতের কোনও লাভ হয়নি।”

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে আচমকাই পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন মোদি। এই সফরকে ‘অযৌক্তিক ও গায়ে পড়া’ বলে আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন প্রণববাবু। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “সেই সময় দু’দেশের সম্পর্কের নিরিখে মোদির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়া একেবারে অযৌক্তিক। উল্লেখ্য, এই সফরের কিছুদিন পরেই পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা হয়।”

এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অযাচিত বন্ধুত্বও না পসন্দ ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতির। এ বিষয়ে প্রণববাবু লিখেছেন,’রাষ্ট্রনেতাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ঘোরবিরোধী আমি, কারণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে তা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। মোদি এ ধরনের সম্পর্ক নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করেছেন।’

মোদির বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রণববাবু লিখেছেন, “মোদি যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সেই সময় বিদেশনীতি নিয়ে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। তাই তিনি এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা তাঁর পূর্বসূরিরা ভাবতেও পারেননি। ২০১৪ সালে নওয়াজ শরিফ-সহ সার্কের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রনেতাদের নিজের শপথগ্রহণে ডেকেছিলেন মোদি। এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত হয়ে যান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x