ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের

ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের আগেই মমতা সরকারের কাছে ব্যাপক সাফল্য নিয়ে এসেছিল দুয়ারে সরকার। হিসেব কষে ভোট প্রচারের মঞ্চ থেকেই মমতা জানিয়েছিলেন তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরলেই শুরু হবে দুয়ারে রেশন প্রকল্প। অর্থাৎ এবার রেশনের সামগ্রীর জন্য লাইন দিতে হবেনা রেশন দোকানের সামনে, বদলে সেগুলি পৌঁছে যাবে ঘরের দরজায়। মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছে পুজোর মরশুমে ভাইফোঁটার পরে পরেই শুরু হোক এই কাজ। এই মুহুর্তে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কাজ চলছে রাজ্য জুড়ে।

আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরের ভোটারদের ৪০-২০ শতাংশ ভাগ স্মৃতির, স্পষ্ট মেরুকরণ দেখছে সব মহল

মমতার মাস্টারপ্ল্যান, একই সঙ্গে আরও একটি ভাবনা ভাবছে নবান্ন, সূত্রের খবর নবান্নর তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবার থেকে রাজ্যবাসীর দুয়ারে দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাই।এই নিয়ে ইতিমধ্যেই আজ রাজ্যের সব জেলাশাসকদের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই বৈঠক করেছেন মুখ্য সচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী। ঠিক হয়েছে এই কাজের জন্য রাজ্য জুড়ে তৈরি হবে আরও দু’লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তবে মমতার প্রকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তাকে কোর্টের দরজায় নিয়ে গিয়েছেন ডিলারদের একাংশ।

ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের
ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের

তাঁদের বক্তব্য ছিল এভাবে বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়া যায়না। আইন অনুযায়ী রেশন দোকানে এসে মানুষ রেশন নেবেন এটাই নিয়ম। বাড়ি গিয়ে রেশন দিতে হলে ডিলারদেরই গাড়ির খরচ, প্রচারের খরচ এবং সংরক্ষণের খরচ বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে সরকার। এই বিপুল খরচ তারা বহন করতে পারবেন না। যদিও রাজ্য সরকার বারবার জানিয়েছিল এই কাজ সেপ্টেম্বরের জন্য, পরীক্ষা মূলক সময় পর্যন্ত। প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাকি সব দিক বিবেচনা করে পরিবহন এবং অন্যান্য খরচের দায় নেবে রাজ্য সরকার।

তবুও সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাজ্য সরকারের পাইলট প্রজেক্টের স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন কিছু ডিলার, গত ১৫ই সেপ্টেম্বর আদালতে তার শুনানি ছিল। আদালতে খারিজ করা হয়েছিল ডিলারদের দুয়ারে রেশন প্রকল্পের স্থগিতাদেশের আর্জি। শুরু হয়েছে ট্রায়াল পর্ব। তবে দিন কয়েক পরীক্ষামুলক কাজ চলার পরেই বৃহস্পতিবার  রেশন ডিলারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়ান ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন-এর পক্ষ একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে।

ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, মমতার গ্রিণ সিগন্যাল পেলে নভেম্বরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হবে কাজ। 

ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের
ডিলারদের চিঠি।

ডিলারদের দাবি ছিল, অক্টোবর মাস পুজোর মাস, ডিলাররাও উৎসবের মেজাজে থাকবেন, এমনিতেও গোটা মাসে কর্মদিবস মাত্র ১৯ দিন। তাই দুয়ারে রেশন পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ অক্টোবর মাসের বদলে নভেম্বর মাস থেকে শুরু করতে। তবে খাদ্য দফতরের তরিফে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে ডিলারদের এই আর্জি। যুক্তি দেওয়া হয়েছে ১৫ দিন কাজের পরেই বন্ধ করা সম্ভব নয় পাইলট প্রোজেক্ট। এমনিতেও একবার কাজ শুরু হলে বড় কোন বাধার সম্মুখীন না হলে তা স্থগিত রাখা যায়না। আবার ১৫ দিনের পর বন্ধ হলে দুই ঘটনাও ঘটবে বলে জানানো হয়েছে। এক ভুল বার্তা যাবে সাধারণ মানুষের  কাছে, এবং দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এখন বন্ধ থাকলে নভেম্বর থেকে পুরপুরি কাজ শুরু করা সম্ভব হবেনা কোনভাবেই।

ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের
ডিলে করা যাবেনা দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রজেক্টে, ডিলারদের সাফ বার্তা খাদ্য দফতরের

খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘এটা ঠিক যে অক্টোবর মাস জুড়ে রাজ্যে উৎসবের মরসুম। তাই উৎসবের দিনগুলিতে প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে। কিন্তু, তা বলে এক মাস প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’’ সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা জানিয়ে দিয়েছি অক্টোবর মাসে ১৫ দিনের জন্য চালু থাকবে দুয়ারে রেশনের পাইলট প্রকল্পের কাজ। আর নভেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সঙ্কেত দিলেই রাজ্য জুড়ে মূল প্রকল্পের রাজ পুরোদমে চালু হয়ে যাবে।’’ যদিও এই উৎসবের মরশুমে কেই বা কাজে আসবেন আর কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসবেন রেশন, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় ডিলাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here