দলে ফিরেই ‘কাজ’ শুরু চানক্য মুকুলের, ফোন বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের।

মুকুলের তালিকায় ১১ বিধায়ক, ২ সাংসদের নাম! উদবিঘ্ন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
মুকুলের তালিকায় ১১ বিধায়ক, ২ সাংসদের নাম! উদবিঘ্ন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দলে ফিরেই ‘কাজ’ শুরু চানক্য মুকুলের, ফোন বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের। কালই বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল রায় ও তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়। আর দলে ফিরেই এবার নিজের ‘কাজ’ শুরু করে দিলেন বঙ্গ রাজনীতির চানক্য। তৃণমূলে ফিরেই বিজেপির  একগুচ্ছ সাংসদ- বিধায়ককে এবার তৃণমূলে নিয়ে আসার কাজ শুরু করে দিলেন মুকুল রায়। সূত্রের খবর শুক্রবার তৃণমূল শিবিরে যোগদান করার পর রাতেই দলের এক সাংসদ ও প্রায় দশজন বিধায়ককে ফোন করেন মুকুল রায়। যাঁরা ফোন পেয়েছেন, তাঁদের কয়েকজন ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েও দিয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ টিকার উপর না হলেও করোনা চিকিৎসার সামগ্রীর উপর জিএসটি কমালেন অর্থমন্ত্রী

জানা যাচ্ছে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, হুগলি জেলায় একজন করে বিধায়কের কাছে , অন্যদিকে, পুরুলিয়ায় ফোন গিয়েছে ২ জন বিধায়কের কাছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, জলপাইগুড়ি, হুগলি ও পুরুলিয়ার বিধায়করা ইতিমধ্যেই দলের রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জঙ্গলমহলের এক বিধায়ক সেকথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ”মুকুলদা আমাকে ফোন করেছিলেন। কী কথা হয়েছে, তা আমি প্রকাশ্যে বলতে চাই না। তবে আমার জবাব আমি তাঁকে জানিয়ে দিয়েছি। মুকুলদা যে আমাদের ফোন করে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা আমরা দল ও শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়ে দিয়েছি।”

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কেও ফোন করেছিলেন মুকুল। তাঁকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন মুকুল। যদিও এই ফোন-পর্বের কথা মানতে চাননি শিখা। তাঁর কথায়, ”আমাকে মুকুলদা ফোন করে কোনও প্রস্তাব দেননি। মুকুলদার জন্য রাজনীতিতে এতদূর আসতে পেরেছি, এটা ঠিকই, কিন্তু তিনি দলবদল করলেও আমি বিজেপি ছাড়ব না।” এ ব্যাপারে মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ বলেন, ”মুকুল রায় যে আমাদের কয়েক জন বিধায়ককে ফোন করেছেন, সে কথা আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষযে যা করার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী করবেন।”

দলে ফিরেই ‘কাজ’ শুরু চানক্য মুকুলের, ফোন বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের। এদিকে এই নিয়ে যথেষ্ট চাপে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও সেকথা মানতে নারাজ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এব্যাপারে তিনি জানান ”ওঁর অনেক পূর্ব পরিচিত আছেন। তাঁদেরকে উনি ফোন করতেই পারেন। কারা থাকবেন, কারা যাবেন, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আয়ারাম-গয়ারামদের নিয়ে বিজেপি চলে না। বিজেপি-র যে ঝড় হয়েছিল তাতে অনেক ধুলোবালি দেবতার মাথায় এসে পড়ে। এ বার সেগুলো নর্দমায় যাওয়ার সময় হয়েছে।” যদিও আগামী দিনে নিজেদের মাটি ধরে রাখা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here