নজরবন্দি ব্যুরোঃ IPAC ইস্যুতে মানিকের গলায় তৃণমূলের সুর, আইপ্যাক সদস্যদের বন্দি নিয়ে ত্রিপুরারা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর সেকথাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ত্রিপুরাতে সমীক্ষা করতে গিয়ে রবিবার থেকে আটক প্রশান্ত কিশোরের টিম আইপ্যাকের ২৩ সদস্য।
আরও পড়ুনঃ জ্বালাচ্ছে জ্বালানি মূল্য, বিকল্প পথে ‘ডুয়েল ফুয়েল’এ বাস চালানোর কথা ভাবছে SBSTC


আর তা নিয়েই এই মুহুর্তে চরম জলঘোলা চলছে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। ২১ এর ভোটের পর তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রথম টার্গেট ২৩ এর ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই কাজের জন্যই ভোট কুশলী পিকের টিম গিয়েছিল বিপ্লবের রাজ্যে। উদ্দেশ্য বাংলার ভোটের আগে যেভাবে চিনেছিল গোটা রাজ্যকে, আর তার পরেই ছক কষেছিল জয়ের।

ঠিক একই ভাবে এগোবে ত্রিপুরাতেও। তবে কোভিড বিধি ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে তাদের হোটেল বন্দি করে রেখেছে আগরতলার পুলিশ। মমতার নির্দেশে বাংলা থেকে ব্রাত্য-মলয়রা ত্রিপুরাতে যাওয়ার পরে ছাড়ের বদলে উলটে সুর চড়িয়েছে সেই রাজ্যের পুলিশ। দেখাও করতে দেওয়া হয়নি তাঁদের।
আইপ্যাকের সদস্যদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান হয়েছে। বলা হয়েছে হাজিরা না দিলে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার নিজের রাজ্যে ঘটা এই ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। আগরতলার এক দলীয় কার্যালয় থেকে সিপিএম নেতা এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “পত্রিকায় দেখে জানালাম একটা সংস্থা সমীক্ষা করতে এসেছে। তারা আসতেই পারে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই বলে তাদের সদস্যদের হোটেলে বন্দি করে রাখতে হবে?”


ভয় পাচ্ছেন বিপ্লব দেব! IPAC ইস্যুতে মানিকের গলায় তৃণমূলের সুর।

তার পরেই তিনি বলেন, “এ সব কেন করছে? আসলে বিজেপি-র সরকার ভয় পেয়েছে। ভয়ভীতি থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সরকারের এই ভয়ভীতির কারণেই তাদের পাশ থেকে জনগণ সরে গিয়েছে” সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এতো জঙ্গলের শাসনকে ছাপিয়ে চলে গিয়েছে। কখনও এমন রাজত্ব দেখেনি ত্রিপুরা’।
আর এখানেই মানিকের গলায় তৃণমূলের সুর খুঁজে পেয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। আইপ্যাকের সদস্যদের আটকের প্রথম দিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে শুরুতেই ভয় পেয়ে গিয়েছেন বিপ্লব দেব।মমতার আগমনে শঙ্কিত হয়েই এসব করছে গেরুয়া শিবির।

মানিকের গলায় তৃণমূলের সুর শুনে অনেকেই ত্রিপুরাতে তৃণমূল-সিপিএম জোটের আভাস পাচ্ছেন। এদিকে দিন কয়েক আগেই বাংলায় বিজেপি বিরোধী যে কোন দলের সঙ্গে জোটে রাজি বলেছেন বিমান বসু। তাতে স্পষ্ট ভাবে মমতার দলের কথা না বললেও তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার ইঙ্গিতও পাচ্ছেন অনেকেই।
বিমানের পরে এবার ত্রিপুরাতেও মানিকের গলায় বিজেপির ‘ভয় পাওয়ার’ তত্ব শুনে অনেকেই একই আভাস খুঁজে পাচ্ছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ২৩ এর ভোটে বিজেপির বিপ্লবকে রুখে দিতে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলাতেই পারে CPM।

এদিকে আগরতলা গিয়েও আইপ্যাকের সদস্যদের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ব্রাত্য বসু-মলয় ঘটক। তাঁদের বক্তব্য আইপ্যাক রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্বেও এতো ভয় বিজেপির। তার সঙ্গে বামেদের উদ্দেশ্যেও বলেন বাংলার মত ভুল না করে ত্রিপুরায় তাদের উচিত মমতা সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই জারি রাখা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



