তিন দিনের সফরে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় মুখ্যমন্ত্রী।

তিন দিনের সফরে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ব্যুরো: এবার দক্ষিণ ২৪ পরগণা সফরে মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহে তিনদিনের সফরে যাচ্ছেন তিনি। চলতি মাসের ৭ তারিখ কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে নামখানা পৌঁছাবেন তিনি। যোগ দেবেন প্রশাসনিক বৈঠকে। পরদিন তিনি সাগরদ্বীপে যাবেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে এই বছরের গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্য়মন্ত্রী। ৯ তারিখও সেখানে থাকার কথা তাঁর। ১০ তারিখ তিনি ফিরবেন কলকাতায়। এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে তাঁর কোনও দলীয় কর্মসূচি বা সভার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ৮ অথবা ৯ তারিখ তাঁর কোনও দলীয় কর্মসূচি থাকলেও থাকতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোটের আগেই তৃণমূলে ভাঙন ধরাতে এবার মাঠে শোভন-বৈশাখী!

ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি চলছে। করোনা আবহের মধ্যেই এবারের মেলা হতে চলেছে। আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে গঙ্গাসাগর মেলা, চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। কোভিড পরিস্থিতিতেও গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় হবে ধরে নিয়েই স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য ও জেলা প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সেই মতো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিন দিনের সফরে, জানা যাচ্ছে, বাফার জোনে থাকছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। মেলায় ঢোকার দশটি পয়েন্টে সর্বক্ষণ থাকবে করোনা রাপিড টেস্টের ব্যবস্থা। প্রত্যেক পয়েন্টে থাকবে কোভিড ম্যানেজমেন্ট টাস্কফোর্স। খোলা হয়েছে ১১ টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও ৮টি সেফ হোম। কোয়ারান্টাইন সেন্টারে থাকছে ৬৪৫ টি এবং সেফ হোমে থাকছে ৬১৫ টি বেড। এছাড়াও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য থাকছে ৩৮ টি বুথ। সেখানে থাকছে মোট ৬৫৮ টি বেড। গতবারের তুলনায় এবার চিকিৎসকের সংখ্যা দ্বিগুণ ও নার্সের সংখ্যা তিনগুণ বেশি করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মেলার অস্থায়ী হাসপাতাল থেকে কোন রোগীকে স্থানান্তরিত করার প্রয়োজন হলে তাঁকে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এম আর বাঙ্গুর হসাপাতাল বা বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মৃতদেহ সৎকারের জন্য ৬ টি কবরস্থান ও চুল্লির ব্যবস্থা থাকছে।

তিন দিনের সফরে , পাশাপাশি এবারের সাগর মেলার মাঠে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সাগর বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ থেকে ২৫০ জন পুরুষ ও মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। মেলা শুরুর আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন সাফাই কর্মীরা। আবর্জনা সাফাইয়ের জন্য থাকছে ২৮টি ই রিক্সা। আবর্জনা ফেলার জন্য থাকছে ২ হাজারেরও বেশি ভ্যাট। এছাড়াও মজুত আবর্জনার জন্য ২ টি অস্থায়ী কঠিন তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক উলগানাথন জানিয়েছেন, ‘এবারের মেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দূরত্ব বিধির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী হাসপাতাল, রাপিড টেস্টের ব্যবস্থা থাকছে। এবারের মেলায় বেশি সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।’ সমস্ত বিষয়টি তদারকি করছেন সাগর বকখালি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি জানান, ‘সাগর মেলার যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তার সমস্ত কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি এই মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x