CPIM টাকা মেরে দেবে, ‘আইলা’য় কেন্দ্রীয় সাহায্যের বিরুদ্ধে ছিলেন মমতা… অথচ এখন!

CPIM টাকা মেরে দেবে, আয়লায় কেন্দ্রীয় সাহায্যের বিরুদ্ধে ছিলেন মমতা... অথচ এখন!
CPIM টাকা মেরে দেবে, আয়লায় কেন্দ্রীয় সাহায্যের বিরুদ্ধে ছিলেন মমতা... অথচ এখন!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ CPIM টাকা মেরে দেবে বলে আইলায় কেন্দ্রীয় সাহায্যের বিপক্ষে ছিলেন মমতা, অথচ তার পর বাংলায় আরও ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। গত বছরের আমফান এবং এবছরের আজকের ইয়াস। আর এই প্রচন্ড ভয়ঙ্কর দিনে উঠে আসছে সেই একই প্রসঙ্গ। ঘূর্ণিঝড়-ক্ষয়ক্ষতি-প্রশাসন এবং সাহায্য।

আরও পড়ুনঃ ইয়াসের লেজ ঝাপটায় ভরা কোটালে প্রবল জলোচ্ছাস, ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি রাজ্যবাসী।

আইলার স্মৃতি এখনো ভোলেনি মানুষ। ২০০৯ এর মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং উপকূলভাগে আছড়ে পড়ে তার দিন কয়েক পরে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো সেবার। তখন বাংলায় ছিল বাম জামানা। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীতা করেছিলেন কেন্দ্রের সাহায্যের। তিনি বলেছিলেন কেন্দ্র থেকে সাহায্য এলেই টাকা মেরে নেবে CPIM। তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি।

CPIM টাকা মেরে দেবে, আইলায় কেন্দ্রীয় সাহায্যের বিরুদ্ধে ছিলেন মমতা… ! তারপর রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, বাম জামানার অবসান ঘটিয়ে নবান্নে অফিস করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ এর নির্বাচন জিতে তৃতীয় বারের জন্য দলনেত্রী হিসেবে সরকার গড়েছেন তিনি। আর তার শাসন কালেও বাংলায় আছড়ে পড়েছে প্রবল ঝড়। মোকাবিলায় সমস্ত ভাবে প্রশাসনকে তৈরি করলেও প্রশ্ন ঘুরে ফিরে উঠে আসছে কেন্দ্রীয় সাহায্য এবং আয়লার প্রসঙ্গ।

গতবছরের আমফানের সময়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল রাজ্য জুড়ে। একেই করোনা কালে একে একে ভাঙছে আর্থিক কাঠামো, তার মধ্যেই গত বছর আছড়ে পরেছিলো ক্ষুব্ধ আমফান। দিঘা থেকে সুন্দরবন ঘা শুকোয়নি এখনো সেই ক্ষতর। তবে কড়া হাতে সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন ঝড়, সারারত জেগে ছিলেন নবান্নে। ঝর পরে রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে এসে মুখ্যমন্ত্রীর কাজে খুশি হয়ে প্রশংসার পাশাপাশি ১০০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন কেন্দ্রের তরফ থেকে।

তখনই বিতর্ক উস্কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, আইলার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় সাহায্য বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন সিপিএম টাকা মেরে দেবে। আর এখন নিজে ক্ষমতায় এসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে টাকা চাইছেন। তৃণমূল আরও বেশি টাকা মারবে। আসলে এটাই ওঁর স্বভাব। সঙ্গে বঙ্গ বিজপির পক্ষ থেকে মোদির কাছে আবেদন জানানো হয়েছিলো সরাসরি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে।

সে বিতর্কের দিন পেরিয়েছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেরা বহুবার আমফানের ত্রিপল চাল চুরির অভিযোগ এনেছে। বলতে গেলে এই নির্বাচনে বামেদের প্রচারের অস্ত্র ছিলো তৃণ্মুল বিরোধীতা হিসেবে বেকারত্ব এবং আমফানের ত্রিপল চুরি। তবে সেসব ঘা শুকোবার আগেই আজ রাজ্যে ফের আছড়ে পড়েছে ইয়াস। ল্যান্ডফলের কয়েকঘন্টার মধ্যেই কার্যত জলের তলায় দিঘা-মন্দারমণি। লন্ডভন্ড চব্বিশ পরগনা, সুন্দরবন-ফ্রেজারগঞ্জ। এবারেও কোমর বেঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী, আমফানের থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও অটুট বন্ধনী তৈরি করেছেন , জেগে আছেন নবান্নে। তবিউ এই কঠিন কালেও ফের উঠে আসছে কেন্দ্রীয় সাহায্য, আয়লা-আমফান-ত্রিপল চুরি-এবং এবারের ইয়াস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here