জমা জলে বিধায়কের ধর্না, প্রশাসনিক বৈঠকে ধমক মমতার

জমা জলে বিধায়কের ধর্না, প্রশাসনিক বৈঠকে ধমক মমতার
জমা জলে বিধায়কের ধর্না, প্রশাসনিক বৈঠকে ধমক মমতার

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কয়েকমাস আগে একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া পুরসভার একাধিক এলাকা। ৫০ দিন ধরে জল যন্ত্রণার অভিযোগ তুলে জমা জলেই ধর্নায় বসেন হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। অভিযগের নিশানায় ছিল হাওড়া পুরনিগম। জমা জলে বিধায়কের ধর্না -র কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়ককে ধমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ না তুলে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : কাশফুল ও হাঁসের পালক নিয়ে শিল্পের নয়া ভাবনা মুখ্যমন্ত্রীর

তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবার হাওড়া জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার শরৎ সদনে দীর্ঘ সময় ধরে চলে প্রশাসনিক বৈঠক। সেখানে বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তুমি রস্তায় কেন বসেছিলে? জল জমে গেছে তো কী হয়েছে? জানো যে ৮০ বছরে এত বৃষ্টি হয়নি। তুমি কাজ করবে। সহযোগীতা করবে। তা নয়, রাস্তায় বসে গেছো খালি গায়ে। এ আবার কি! তৃণমূল কংগ্রেসের একটা সংস্কৃতি রয়েছে। এসব করো না। টিভিতে একদিন দেখাবে। মানুষ মনে রাখবে ৩৬৫ দিন। আমি বাধ্য হয়েছি তোমাকে বলতে এটা কর না”।

জমা জলে বিধায়কের ধর্না প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “হাওড়ায় জল জমা একটা বিরাট অসুবিধা। কীভাবে জল বের করা যায় সেবিষয়ে আলোচনা করবে। পুরাতন নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কারের জন্য কাজ চলছে। ৭০ বছর ধরে কেউ করেনি। আমাদের সরকার তিন দফায় কাজের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রথম দফার কাজ শেষ। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দফার কাজ বাকি রয়েছে। ধীরে ধীরে কাজ করে ফেলতে হবে। কলকাতার পরেই হাওড়া। এটাকে ধরে রাখতে হবে”।

চলতি বছরে একটানা বৃষ্টির জেরে জল যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে। দীর্ঘ সময় ধরে জমা জলে দিন কেটেছে হাওড়া পুরনিগমের সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জমা জল কমলেও আবার ঘন্টা খানেকের বৃষ্টিতে একই অবস্থা দাঁড়ায়। যার ফলে রোগের সম্ভাবনা থাকে শিশুদের।

জমা জলে বিধায়কের ধর্না, দীর্ঘ দিন ধরে অচলাবস্থা

জমা জলে বিধায়কের ধর্না, দীর্ঘ দিন ধরে অচলাবস্থা 
জমা জলে বিধায়কের ধর্না, দীর্ঘ দিন ধরে অচলাবস্থা

প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনও কমেনি হাওড়া পুরনিগমের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কোনা নস্করপাড়া। যাতায়তের জন্য ভরসা ভেলা। চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীর কথায়, জলা জমিতে বাড়ি তৈরি করার জন্যই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রত্যেক বছরের জমা জলে অস্বস্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। তাই বিধায়কের ক্ষোভ উগরে দেওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন আম জনতা।