লাইভে আবদার জানাতে গিয়ে মিটিংএ বকুনি খেলেন মদন, মমতা বললেন ভেবে কথা বলতে

ফেসবুকে আবদার জানাতে গিয়ে মিটিংএ বকুনি খেলেন মদন, মমতা বললেন ভেবে কথা বলতে
ফেসবুকে আবদার জানাতে গিয়ে মিটিংএ বকুনি খেলেন মদন, মমতা বললেন ভেবে কথা বলতে

নজরবন্দি ব্যুরোঃ লাইভে আবদার জানাতে গিয়ে মিটিংএ বকুনি খেলেন মদন, কামারহাটির প্রশাসক করুন, নাহলে তাড়িয়ে দিন! জয়ের পরে মমতার প্রথম দলীয় বৈঠকের আগে চিরাচরিত ভঙ্গীতে লাইভে এসে এমনটাই দাবী করেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। যদিও আজ সকাল থেকেই তার ওয়ালে লাইভটি আর দেখা যায় নি। তবে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে লাইভে এসেছে হাজার কথার মাঝে আচমকা কামার হাটির প্রশাসক পদের আবদার করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ শক্তি প্রদর্শন নাকি অন্য কিছু? এবার উপরাষ্ট্রপতির অ্যাকাউন্ট থেকে ব্লু টিক তুলে নিল ট্যুইটার

এর আগেও দুঃখে, আনন্দে, হাসপাতালে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে কড়া রোদে প্রায় সবসময়েই নিজের মনে কথা ব্যাক্ত করেন তিনি। হাসপাতালে থাকা কালীনই লাইভে এসে জানিয়েছিলেন নারদ মামলা চলার জন্য এই বাইরে বেশি কথা বলতে পারবেন না, তাই সময় পেলেই লাইভে এসে মনের কথা খুলে বলবেন তিনি। গত ক’দিনে জেল-হাসপাতাল থেকে মুক্তির আনন্দে বেশ কয়েকবার লাইভে এসে গানও গেয়েছেন তিনি।

এবার লাইভে এসে কামারহাটির অবস্থা থেকে একাধিক বিষয়ে কথা বলেন। লাইভ থেকেই কামারহাটির দৈন অবস্থার কথাও তুলে ধরেন,  বলেন বিটি রোডের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দীর্ঘদিন রাস্তার সারাই হয় না। পৌরসভা কোনও কাজ করেনি। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি যাঁদের মনে করেন আহারে দুদুভাতু খায়! তাঁরা যে কী জিনিস! নিজের যুক্তির সপক্ষে তিনি নাম তুলে আনেন সৌগত রায়ের। লাইভেই বলেন অধ্যাপক সৌগত রায়কে জিজ্ঞাসা

অভিযোগের পরেই তিনি জানান কামারহাটির এই দৈন দশা একেবারেই চোখে দেখা যায়না। তাঁর নিদান মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার তাঁর ওপর ভরসা করে দায়িত্ব দিন কামারহাটির প্রশাসনের, তিনমাসেই তিনি বদলে দেবেন সব। সঙ্গে বলেন ‘দরকার হলে বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিতে রাজি। কিন্তু আমার উপর একটু ভরসা রেখে দেখুন না। কামারহাটির প্রশাসক করুন, নাহলে তাড়িয়ে দিন! আমি মদন মিত্র বলছি। নিরাশ হতে হবে না।’ কিছু ক্ষেত্রে তাঁর কথায় অভিমান শোনা গিয়েছে। সময় চেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করার জন্য।

আর তার পরেই আজকের ্মিটিং বকুনি খেয়ে গেলেন মদন মিত্র। তাঁর ওপর ভরসা করেন মমতা। সেই কারণেই কামারহাটির আসনে লড়িয়েছেন এই নির্বাচনে। জিতেও এসেছেন তিনি। কিন্তু জায়গা পাননি মন্ত্রী সভায়। দাদার অনুগামীরা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তিনি বারবার বলে এসেছেন তিনি লয়াল। তিনি দিদির সৈনিক। তবে  এহেন লাইভে এসে এসব দাবি করার পরেই বেজায় চটেছেন দলনেত্রী। শুধু মদন মিত্র নয়, তিনি জানিয়েছেন আজকের পর কোন নেতা মন্ত্রী যা খুশি বলে বসবেন না। দলের ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে পরিমিত কথা বলবেন সকলেই।

যদিও বকুনি খাওয়ায় পর মদন মিত্র ক্ষুণ্ণ হননি। বৈঠক শেষে আগের মতোই জানিয়েছেন, এখন একটাই লক্ষ্য ২০২৪ এ বিজেপিকে হারান এবং ফের ২০২৬এ তৃণমূলকে জেতানো। সঙ্গে দিদির ভর্তসনা প্রসঙ্গে বাংলার ক্রাশ জানিয়েছেন, ‘‘আমাকে বলেছেন, তোমায় সবাই ভালবাসে। তুমি তোমার ফেসবুকগুলো আরও সাজিয়ে-গুছিয়ে সুন্দর ভাবে করবে। যাতে আমাদের সুবিধা হয়।’’ সঙ্গে আজকের বৈঠকের বিষয়ে আপ্লুত কামারহাটির বিধায়ক জানিয়েছেন ‘‘সবাই আমরা এককাট্টা। সুন্দর কমিটি হয়েছে। বেস্ট টিম ইন দ্য হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়ান ডেমোক্র্যাসি।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here