দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান। রাজ্যের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকা প্রবীণ নেতা মুকুল রায়ের প্রয়াণে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধার বিদায়ে তাঁর বার্তায় উঠে এল সংগ্রামের দিন, আস্থার সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত শোকের গভীর সুর।
রবিবার গভীর রাতে মুকুল রায়ের মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই প্রবীণ নেতার প্রয়াণে সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


নিজের বার্তায় তৃণমূল নেত্রী লেখেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।”
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সময়ের পরিবর্তনে সম্পর্কের সমীকরণ বদলালেও, একসময় দলের সংগঠন বিস্তারে মুকুল রায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম আস্থাভাজন। তৃণমূলের প্রথম দিকের লড়াই থেকে রাজ্যের ক্ষমতার রাজনীতিতে উত্থান— বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবনে নানা বাঁক এলেও, বাংলার রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বরাবরই একমত ছিল। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন দলের নেতারাও শোকপ্রকাশ করেছেন।


এক প্রবীণ নেতার বিদায়ের সঙ্গে যেন বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়ও শেষ হল— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



