তথ্য বিকৃতি বা গোপন নয়, কেরলে গোষ্ঠী সংক্রমণের সাহসী ঘোষণা করলেন বিজয়ন।

তথ্য বিকৃতি বা গোপন নয়, কেরলে গোষ্ঠী সংক্রমণের সাহসী ঘোষণা করলেন বিজয়ন।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ তথ্য বিকৃতি বা গোপন নয়, গোষ্ঠী সংক্রমণের সাহসী ঘোষণা করলেন বিজয়ন। বিজ্ঞাপন বা আত্মপ্রচারে নয় কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বুঝেছিলেন ভয়ঙ্কর করোনা নামের এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি আগেভাগে না নিলে করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় উজাড় হবে গোটা কেরল। কেরলের সাফল্যের গল্প এখন মিথ, সারা ভারতবর্ষের কাছে একটা মডেল। সরকারের বিরুদ্ধে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লুকিয়ে ফেলার অভিযোগ নেই,বরং ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলে কেরলে।কোভিড-১৯এর বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারির পর যেমন কেরল সরকার করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারি পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করেছে এবং সাফল্য পেয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ কোন কিছুতেই বাঁধ মানছে না করোনা, এক দিনে দেশে আক্রান্ত ৩৫ হাজার

করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে কদিন আগেই কমান্ডো নামিয়েছে কেরল। চরম সংক্রামিত এলাকায় ঢোকা বেরনো বারন। তাই মাথায় রাখা হয়েছে বাসিন্দাদের জীবনধারণের দিকটি। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রয়োজনে খাওয়ারও। একদিনে সর্বোচ্চ টেস্ট করার শিরোপা কেরলের মুকুটেই। সংখ্যাটা হল ৬৮ হাজার ৭৫৩! কিন্তু অনেক চেষ্টা করে করোনা কে কিছুটা প্রতিহত করতে পারলেও পুরোপুরি ঠেকাতে পারলেন না পিনারাই বিজয়ন। বরং আরও একবার দেশ কে বার্তা দিলেন কেরল কেন আলাদা। একদিকে যখন দেশজুড়ে ৩ দিনের গড়ে ১ লাখের বেশি সংক্রমণ হচ্ছে গত ১০ দিন ধরে অথচ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলছেন ভারতে কোন গষ্ঠী সংক্রমণ হয়নি তখন সম্পূর্ণ ঊলটো পথে হেঁটে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন গোষ্ঠী সংক্রমণের।

তথ্য বিকৃতি বা গোপন নয়, গোষ্ঠী সংক্রমণের সাহসী ঘোষণা করলেন বিজয়ন। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন তিরুঅনন্তপুরমের চারটি এলাকাকে চিহ্নিত করে জানিয়েছেন, সংক্রমণের হারে এসব জায়গা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এই এলাকাগুলি। তিরুঅনন্তপুরমের চারটি অঞ্চল যা হল পুল্লুভিলা, পুনথুরা, আঞ্চুথেঙ্গু এবং পুথুক্কুরিশি। এই এলাকাগুলিতে যে হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাকে গোষ্ঠী সংক্রমণের অ্যাখ্যা দিতেই হচ্ছে। এখানে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছেন, অর্ধেক মানুষই করোনা পজিটিভ। তবে প্রশাসন আন্তরিক ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন বিজয়ন।

আরও পড়ুনঃ সংক্রমনে ফার্স বয় কলকাতাকে টক্কর উত্তর ২৪ পরগণার, আশা দেখাল শুধুই ঝাড়গ্রাম।

এদিকে কেরল প্রথম দিকে করোনার সংখ্যা কে প্রায় শূণ্যতে নামিয়ে আনলেও ফের ব্যাপক সংক্রমণ শুরু হয় রাজ্যে। তবে মৃত্যু মিছিল ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে কেরল। রাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৬০ জন। এই আক্রান্ত সংখ্যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ১৯৮ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ হাজার ৪১৭ জন। রাজ্যে এদিন ২০ টি হটস্পটের সংখ্যা বেড়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৫। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। এদিন টেস্ট হয়েছে ১৭ হাজার ১২৪ টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *