করোনা আক্রান্ত দেবদত্তার ৪ বছরের সন্তান, স্বামী এবং শাশুড়ি, বেড পাচ্ছেন না তাঁরাও!

করোনা আক্রান্ত দেবদত্তার ৪ বছরের সন্তান, স্বামী এবং শাশুড়ি, বেড পাচ্ছেন না তাঁরাও!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা আক্রান্ত দেবদত্তার ৪ বছরের সন্তান, স্বামী এবং শাশুড়ি, বেড পাচ্ছেন না তাঁরাও! পরিযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু নিজে আর ফিরতে পারেন নি বাড়ি। করোনার গ্রাসে মাত্র ৪ বছরের সন্তান কে পৃথিবীতে রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন দেবদত্তা। রাজ্যের করোনা যোদ্ধাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া দেবদত্তা রায় চন্দননগরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। বয়েস মাত্র ৩৮ বছর। রাজ্যের মানুষ জেলার মানুষ কে বাঁচাতে একটানা লড়াই করতে করতে বুঝতেও পারেননি কখন শরীরে দানা বেঁধেছে করোনা ভাইরাস। যখন বোঝা গেল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে! মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই মৃত্যু হল তাঁর।

আরও পড়ুনঃ কাল থেকে সম্পূর্ন লকডাউন কলকাতা সহ উত্তর বঙ্গের ৫ জেলা শহর! #Exclusive

এবার মৃত্যুর ১ দিন পরে দেবদত্তা রায়ের চার বছরের সন্তান, স্বামী এবং শাশুড়িও নোভেল করোনাভাইরাসে সংক্রামিত বলে জানা গেল আজ, মঙ্গলবার। জানা গেছে, এখন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চলছে তাঁদের। বেড পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছে পরিবার। দমদম লিচুবাগানের বাসিন্দা ছিলেন দেবদত্তা। ভিন রাজ্য থেকে হুগলীর ডানকুনি স্টেশনে নামা পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন দেবদত্তা। দক্ষতার সাথে প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর পেছনে তাঁর অবদান অনেক। নির্দিষ্ট ভাবে নিয়ন্ত্রন, সামাজিক দূরত্ব পালন নিয়ে পরামর্শ এবং শ্রমিকদের সাথে আন্তরিকতায় নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিলেন দেবদত্তা, পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘ভাল ম্যাডাম!’ এই দায়িত্ব পালন করতে করতেই তাঁর শরীরে প্রবেশ করে মারন ভাইরাস। গত কয়েকদিন ভয়াবহ সেই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই চালানোর পরেও শেষ রক্ষা হয় নি।

২০১১ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস এ গ্রেড অফিসার দেবদত্তা রায় প্রথমে পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে হুগলি জেলার চন্দননগর মহকুমা অফিসে ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। অন্য রাজ্য থেকে যে শ্রমিকরা ডানকুনিতে আসছিলেন তাঁদের দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব ছিল দেবদত্তার উপর। আর সেই কাজ করতে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। এই মারণ ভাইরাসের জীবাণু প্রবেশ করে তাঁর স্বামীর শরীরেও। দুজনেই উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুরে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। কিন্তু রবিবার দেবদত্তার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ায় তাঁকে শ্রীরামপুরের শ্রমজীবী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকাল পৌনে ৯টা নাগাত মৃত্যু হয় তাঁর।

করোনা আক্রান্ত দেবদত্তার ৪ বছরের সন্তান, স্বামী এবং শাশুড়ি, বেড পাচ্ছেন না তাঁরাও! করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তিনি প্রথমে হোম আইসোলেশনেই ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা শাসকের দফতরে জানানো হয়েছিল, অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি কলকাতার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি হতে পারেননি। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ব্যারাকপুরে চিকিৎসা করাতে থাকেন। আরও অবস্থার অবনতি হওয়ায় শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় করোনা যোদ্ধা দেবদত্তা কে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এবার তাঁর সন্তান, স্বামী এবং শাশুড়িও আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে, বেড পাচ্ছেন না তাঁরাও!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x