করোনা আবহে এবছর কেমন হতে চলেছে দুর্গা পুজো?

করোনা আবহে এবছর কেমন হতে চলেছে দুর্গা পুজো?

নজরবন্দি ব্যুরো:  পূজোর বাকি মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন। ইতিমধ্যেই পূজোর থিম নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। করোনা আবহের মধ্যেই পুজোর দেড় মাস আগে থেকেই প্রত্যেকটি থানা ও ট্রাফিক গার্ড আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির থেকে পুজোর থিম এবয় মণ্ডপ সজ্জা কি রকম হবে তা তথ্য নিতে শুরু করেছেন। লালবাজারের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, কোন পুজো কমিটি কি থিম ঠিক করেছে এবং কি রকমের মন্ডপ তৈরি করছে সেই সমস্ত কিছু পুলিশ খোঁজ নিতে শুরু করে দিয়েছে।

এই বিষয় ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সেক্রেটারি শাশ্বত বসু জানান, পুলিশ কর্তারা গত সপ্তাহ থেকেই ফোন করে পুজো কমিটি গুলির সাথে কথা বলে পূজা সংক্রান্ত তথ্য নিচ্ছেন। অপরদিকে শহরের কয়েকটি থানার তরফ থেকে পুজো কমিটি গুলিকে কিছু দিনের জন্য মন্ডপ তৈরি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফের বুধবার থানা থেকে ফোন করে মন্ডপ তৈরি কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়। শাশ্বত বসু জানিয়েছেন, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, হরিদেবপুর, চেতলা, মুচিপাড়া, শ্যামপুকুর-সহ কয়েকটি থানার পক্ষ থেকে মণ্ডপ তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

পরে তারাই আবার কাজ শুরু করার অনুমতি দেন। লালবাজার সূত্রে খবর, কেন্দ্র সরকার পূজো নিয়ে এখনও কোন নি নির্দেশিকা জারি করেনি। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র তরফ থেকে কোন নির্দেশ এলে পুজো কমিটি গুলি সমস্যায় পরতে পারে। পুলিশের কথা অনুযায়ী, মহামারি কারণে পুজোর মণ্ডপগুলি কেমন হবে অথবা দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ এবং বেরানোর ব্যবস্থা কি রকম হওয়া উচিৎ তা নিয়ে নির্দেশিকা জারি হলে এখনো থেকে যে সমস্ত মন্ডপ তৈরি হচ্ছে সেগুলির সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

তবে আপাতত সমস্যাটি মিটে গিয়েছে। এক পুলিশ কর্তা জানান, অন্যান্য বছর পূজোর প্রায় মাস দেড়েক আগে থেকেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এই বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে হাতে গোনা কয়েকটি পূজা কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে প্রতিমার উচ্চতা, পূজার থিম এবং মন্ডপ সজ্জার বিষয়ে। তার সাথে প্রশাসন এও জানার চেষ্টা করছে দর্শনার্থী কত হতে পারে। বেহালা নূতন দল ক্লাবের কর্মকর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মণ্ডপ তৈরির নিয়ে এখন আর কোনও সমস্যা নেই। তাদের মণ্ডপের প্রত্যেকটি গেটে থাকবে স্যানিটাইজার টানেল। দর্শনার্থীদের মধ্যে যাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকে সেই দিকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক সার্বজনীনের কর্মকর্তা সঞ্জয় মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁরা জীবিকাহীন পরিযায়ী শ্রমিকদের দিয়ে মণ্ডপের কাজ শুরু করে ছিলেন। পুলিশের নির্দেশ মেনে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল কিন্তু এখন পূনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে বাইরে থেকেও প্রতিমা দর্শন করতে পারেন সেই ভাবেই মন্ডপ তৈরি হচ্ছে। এবং মন্ডপের প্রবেশের মুখেই থাকবে স্যানিটাইজিং টানেল। এবং বাইরে জায়েন্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পূজো কমিটি গুলি প্রশাসনের সাথে সহযোগিতা করছে। কিছু দিনের মধ্যেই কমিটি গুলির সাথে বৈঠক করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x