Momo: লকডাউনে ঠ্যালাগাড়িতে ব্যবসা শুরু, মোমো বিক্রি করে সরকারী চাকুরের বেতনকে হার মানালেন বিএসসি পাস তরুণী

লকডাউনে ঠ্যালাগাড়িতে ব্যবসা শুরু, মোমো বিক্রি করে সরকারী চাকুরের বেতনকে হার মানালেন বিএসসি পাস তরুণী
from vender to 5 outlets owner a girl journey

নজরবন্দি ব্যুরোঃ  কথায় আছে ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ অর্থাৎ টিকে থাকার লড়াইয়ে সেই জিততে পারে যে পরিস্থিতির সঙ্গে সমঝোতা করে চলে। জীবনের চড়াই- উতড়াইয়ে  খর কুটোর সাহারা পেলেও তা আঁকড়ে বাঁচতে চায়। লকডাউনে চোখরাঙ্গানি, অনিশ্চয়তা বেকারত্বের যন্ত্রনার থেকে বাঁচতে  ‘মোমো’কেই অস্ত্র করে নিয়েছিলেন বি এস সি পাস তরুণী। বাকি চাকরিহারাদের দলে লকডাউনে যুক্ত হয়েছিল মৌমিতা মিস্ত্রির নাম। কিন্তু জীবনের সংকট মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ঠ্যালা গাড়ি নিয়েই শুরু করেছিলেন নতুন জীবন।

আরও পড়ুনঃ পরীক্ষায় টুকেও ফেল, পোষ্যের পরিচারক থেকে আইপিএস অফিসার, দিনবদলের কাহিনী গল্পকেও হার মানায়

মনের মতো মোমো। পাহাড়ি মোমো এখন শহুরে মানুষের জীবনের একটা অঙ্গ হয়ে উঠেছে। মোমো প্রিয় তরুনী এটা ভালই বুঝেছিলেন। তাই মোমো কে মানুষের মনে জায়গা করে দিতে নাম দিয়েছিলেন ‘মোমো চিত্তে’। ঠ্যালা গাড়িতে মোমো ব্যবসা শুরু করে আজ ‘মোমো চিত্তে’-র পাঁচটি আউটলেটের মালিক তিনি। জোর গলায় এই তরুণী জানালেন, কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি চাকুরের থেকে মাস গেলে বেশি আয় করেন তিনি।

লকডাউনে ঠ্যালাগাড়িতে ব্যবসা শুরু, মোমো বিক্রি করে সরকারী চাকুরের বেতনকে হার মানালেন বিএসসি পাস তরুণী
লকডাউনে ঠ্যালাগাড়িতে ব্যবসা শুরু, মোমো বিক্রি করে সরকারী চাকুরের বেতনকে হার মানালেন বিএসসি পাস তরুণী

শহর কলকাতায় এই মুহূর্তে পাঁচটি আউটলেট রয়েছে ‘মোমো চিত্তে’-র। আর এই মোমো ব্র্যান্ড তৈরির নেপথ্য কারিগর মৌমিতা। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতা মোউমিতা বুঝেছিলেন লকডাউনে চাকরি হারাতে চলেছেন। ব্যাক আপ হিসেবে মাথায় আসে মোমোর নাম। মৌমিতা জানান, তখনও তিনি বুঝতে পারেননি এই উদ্যোগ রাতারাতি এভাবে জনপ্রিয়তা পাবে। বর্তমানে বর্তমানে তাঁর পাঁচটি আউটলেটে ১৫ জন মেয়ে এবং নয় জন ছেলে কাজ করেন।

লকডাউনে ঠ্যালাগাড়িতে ব্যবসা শুরু, মোমো বিক্রি করে সরকারী চাকুরের বেতনকে হার মানালেন বিএসসি পাস তরুণী

momo 1234

এখানেই শেষ নয়, ‘বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না’- এই কথা টিকে মিথ্যা করে আগামী ১৭ ডিসেম্বর হালতু এবং পরে যাদবপুরে আমাদের একটি আউটলেট খোলার পরিকল্পনা করেছেন মৌমিতা। উল্লেখযোগ্য ভাবে মোমো চিত্তের আরও একটি উদ্যোগ হল প্রথম সারিতে যারা কাজ করেন তারা সকলেই মহিলা। মহিলাদের এগিয়ে দেয়া টাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। অবশ্য পথ ছিল কঠিন। প্রথমে ঠ্যালায় মোমো বিক্রির বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি পরিবার। পাশে ছিলেন বন্ধু এবং স্বামী। প্রথম দিনে মাত্র এক প্লেট দিয়ে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেদিনই বিক্রি হয় ছয় প্লেট। আর তারপরই ফিরে তাকাতে হয়নি মোমো চিত্তের কারিগরকে।