অবশেষে…দিন খানেকের মৌনব্রত ভেঙে সরব বিরোধী দলনেতা!

অবশেষে...দিন খানেকের মৌনব্রত ভেঙে সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী
অবশেষে...দিন খানেকের মৌনব্রত ভেঙে সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অবশেষে… দিন খানেকের মৌনব্রত ভেঙে সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দানের পর থেকে সভা-মঞ্চ-সাংবাদিক বৈঠক এমনকি বিজেপির দলীয় মিটিং কোন কোন ক্ষেত্রে বাকিদের আলো কিছুটা কেড়ে নিয়েই সরব হয়েছিলেন তিনি। তা সে হুট করে দল বদলে দীর্ঘদিনের টিমলিডারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ হোক, বা নিজের পুরানো দলের ভেতরের সত্যি বাইরে আনা হোক, গত কয়েক মাসে শুভেন্দু অধিকারী সরব ছিলেন ১০০ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ ঘূর্ণিঝড় গেলেও ঝড় অব্যাহত, আমফানের স্মৃতি উসকে মমতা বন্দনা মদনের!

তবে গত কয়েকদিনে একেবারে চুপ তিনি। কার্যত যাকে বলা যায় মুখে কুলুপ এঁটে। গত ক’দিনে রাজ্যে যে উত্তাল পরিস্থিতি, নারদ-নাটক তার অংশ তিনি নিজেও। অথচ নাটকের এই পার্টের খসড়ায় নেই তাঁর নাম। আর তাতেই  হাজার প্রশ্ন উঠেছে সাধারন মানুষের মধ্যে থকেই। গত সোমবার  আচমকা নোটিস ছাড়াই নারদ কান্ডে ফিরহাদ-মদন-শোভন-সুব্রতকে তুলে নিয়ে যায় CBI। সেদিন থেকে এখনো পর্যন্ত জেল হেফাজতে তাঁরা।

কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে ঘটনায় সমান ভাবে জড়িত থাকা সত্বেও গ্রেপ্তার হননি রাজ্যের এই মুহুর্তের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রশ্ন সেখানেই। নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল হোক বা তৃণ্মুলের হাজার হাজার সমর্থক কিম্বা নিপাট সাধারণ মানুষ। সকলেই প্রশ্ন তুলেছিলেন এই যাত্রায় পৃথক ফল কেনো? সমান অপরাধে কোন রক্ষকবচে ছাড় পাচ্ছেন তিনি? প্রশ্ন এবং উত্তর দুটোই মানুষ নিজেদের মতন করে ভেবে নিয়েছেন। সবার মুখে গত কয়েকদিনে ঘুরেছে তবে কি বিজেপি-যোগের ফল? বিজেপির তরফ থেকেও কিছু বলা হয়নি এখনো, CBI জানাচ্ছে অনুমতি আসেনি। সব মিলিয়ে সকলেই জানতে চাইছিলেন অধিকারীর বক্তব্য কী।

অথচ সব বিষয়েই সরব শুভেন্দু কদিন একটু চুপই ছিলেন। রাজ্যের দোশ ত্রুটিও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার ইচ্ছে ছিলোনা।  মৌনব্রত ভেঙে আজ মুখ খুলেছেন, একের পর এক ট্যুইট করে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রসঙ্গ করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বৈঠক।

যে বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠোক করে এক প্রকার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তিনি সাফ জানিয়েছেন একগুচ্ছ প্রশ্ন এবং তার সমাধানের আশায় বৈঠকে গেলেও জাস্ট সময় দেননি মোদী। নিজেই বলেছেন নিজেই বুঝেছেন, ১০ মুখ্যমন্ত্রীকে ডেকে পুতল এর মতো বসিয়ে রেখে বৈঠক নিজের মতো শেষ করে পালিয়ে গেছেন। আর এসবের ঠিক পরেই মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

একদিকে যখন মমতা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অভিযোগ করছেন তাঁদের ডেকে অপমান করা হয়েছে, তখন ট্যুইটে শুভেন্দু লিখছেন, দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী এবং জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি মোকাবিলার। অথচ  বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েও রাজনীতি করছেন। সঙ্গে অধিকারী এও দাবী করেছেন এতদিন মুখ্যমন্ত্রীদের কোন বৈঠকে আসেননি মমতা, আর আজকে জেলাশাসকদের বৈঠক হাইজ্যাক করে বলছেন তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। সঙ্গে তিনি লিখেছেন বাংলায় ব্যাপক হারে বাড়ছে কোভিড, অথচ মুখ্যমন্ত্রী  এখনো নিজের জয় আর বিরোধীদের আক্রমণে ব্যাস্ত। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যে বিজেপি শাসিত জেলাশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তাও খন্ডন করেছেন শুভেন্দু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here