ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রায় স্পষ্ট হওয়ার আগেই রাজনৈতিক আক্রমণের সুর আরও চড়াল বিজেপি। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তৃণমূলকে কড়া কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্তব্যে উঠে এল নতুন রাজনৈতিক শব্দবন্ধ— ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন ‘হার-বার মডেল’। নাম না করলেও তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তা রাজনৈতিক মহলের মতে স্পষ্ট।
ভোটগণনা চলাকালীনই শুভেন্দুর পোস্ট সামনে আসে। তখনও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হয়নি, তবে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। পরে ফলাফলেও সেই প্রবণতা বজায় থাকে। শুভেন্দু নিজের পোস্টে ফলতার ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেন, তিনি এক লক্ষ ভোটে জয়ের আবেদন করেছিলেন, আর ব্যবধান তা ছাড়িয়ে গিয়েছে।


তিনি লেখেন, ফলতার মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নের মাধ্যমে এই সমর্থনের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ‘সোনার ফলতা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।
এর পরেই তৃণমূলকে নিশানা করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার, দুর্নীতি, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ক্ষমতা হারানোর পর সেই কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে।
একই পোস্টে তিনি নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ করেন। ‘প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি’ এবং ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’— এমন একাধিক মন্তব্য করেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র ও ফলতা এলাকার অতীত ভোটের ফলের প্রসঙ্গ টেনেই এই আক্রমণ সাজানো হয়েছে।


শুভেন্দুর পোস্টে আরও উঠে আসে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ। সেই নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা থেকে তৃণমূল বড় ব্যবধানে এগিয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, সেই সময়ে স্থানীয় স্তরে প্রভাব খাটানো হয়েছিল। যদিও তৃণমূল অতীতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ফলতা উপনির্বাচনে ভোটের আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর নাম ইভিএমে থেকেই যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি সীমিত সংখ্যক ভোট পান।
এই ফলের পর শুভেন্দুর আরও মন্তব্য, ভবিষ্যতে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় লড়াই হতে পারে ‘নোটা’র বিরুদ্ধে। ত্রিপুরার নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপনির্বাচনের ফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ছবির একমাত্র নির্দেশক নয়। তবু ফলতা দেখিয়ে দিল— স্থানীয় সংগঠন, প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের মনোভাব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



