হয় ৪ জনের মুক্তি নয় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার, অন্যথায় শান্তিকুঞ্জ ঘেরাওয়ের ডাক তৃণমূলের

হয় ৪ জনের মুক্তি নয় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার, অন্যথায় শান্তিকুঞ্জ ঘেরাওয়ের ডাক তৃণমূলের
হয় ৪ জনের মুক্তি নয় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার, অন্যথায় শান্তিকুঞ্জ ঘেরাওয়ের ডাক তৃণমূলের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ হয় ৪ জনের মুক্তি নয় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার, এই চর্চা সকাল থেকেই জারি। নির্বাচন, ভোট-পরবর্তী হিংসা, সব থিতু হচ্ছিলো ধীরে ধীরে, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত কাল থেকে রাজ্যে লকডাউনের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দ্বিতীয় ঢেউয়ের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেই আচমকা রাজ্য-রাজনিতীর প্রেক্ষাপটে নাটকীয় উপস্থিতি নারদের, আর তাতেই উলটে পালটে গেলো কোভিড বিধি থেকে মন্ত্রীসভার বৈঠক।

আরও পড়ুনঃ টাকা লুঠছে চিকিৎসার নামে, এক মালিকের তিন নার্সিংহোম বন্ধ করলো স্বাস্থ্য কমিশন

 

সোমবার সকালেই একে একে বিশাল বাহিনী নিয়ে CBI পৌঁছেছিলো একে একে মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেসব খবর প্রকাশিত হয়ার মাঝেই ফের হানা দেয় ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে।  তাঁর চেতলার বাড়ি থেকে ‘গ্রেপ্তার’ রাজ্যের নতুন পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ,  নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান সিবিআই (CBI) কর্তারা। অনুমতি ছাড়াই এই গ্রেফতার হয়েছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ‘নারদ মামলায় আমায় গ্রেফতার করা হল। এদিকে সোমবার সকালেই মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়।

তার পর থেকেই কার্যত রণক্ষেত্র গোটা বাংলা। সকাল পৌনে ১১টা থেকে প্রায় ৬ ঘন্টা ঠাই নিজাম প্যালেসে বসে রইলেন মমতা, বাইরে বিক্ষোভ রত হাজার হাজার কর্মী সমর্থক। তৃণ্মুলে তরফ থেকে বারবার বলা হয়েছে বিজেপির প্রতিহিংসা চরিতার্থের অংশ ই গ্রেপ্তারি। শুধু নিজাম প্যালেস, রাজভবন নয়, অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে।

এই গ্রেপ্তারি নজিরবিহীন, এই গ্রেপ্তারি বেআইনি দাবী তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছে স্থানে স্থানে। তার সঙ্গেই তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন মুকুল-শুভেন্দুকে নিয়ে। তাঁদের দাবি এক যাত্রায় পৃথক ফল কেনো?, যদি নারদ কান্ডে ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন তাহলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে ছাড় পাচ্ছেন কেনো মুকুল-শুভেন্দুরা।

নারদ কান্ডে নাম জড়িয়ে আছে মুকুল-শুভেন্দুর। কিন্তু এই মুহুর্তে বহাল তবিয়তে আছেন তাঁরা। সেই নিয়েই উত্তাল রাজ্য। তৃণমূল সমর্থকদের মতে, বিজেপি করার ছাড় পাচ্ছেন তাঁরা। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ক্ষমতা থাকলে সিবিআই আগে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসুন। শুভেন্দু-মুকুলরা এখন বিজেপির কোলে বসে রয়েছে, তাই তাঁরা বাদ!’ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের মতে ‘এটা পুরোপুরিই প্রতিহিংসা। অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলায় হেরে গিয়ে এখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নেমেছে বিজেপি। তাই সিবিআই-কে কাজে লাগানো হচ্ছে।’ একই বক্তব্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কাছে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে প্রশ্ন, জোরালো হয়েছে আন্দোলন। শুভেন্দুর ছাড় পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন আজকের এই গ্রেপ্তারিতে খুশি তিনি, কিন্তু প্রশ্ন করেছেন, শুভেন্দু কোথায়? টাকা তো সেও নিয়েছিলো…

হয় ৪ জনের মুক্তি নয় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার করা হোক, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে প্রতিবাদের পথ, নিজাম প্যালেস এবং রাজভবনের সামনে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে এই বিক্ষোভ। মেদিনীপুরের একাধিক জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে, বিক্ষোভ দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। সকলের এক মত, অবিলম্বে গ্রেপ্তার হোক শুভেন্দু অধিকারি এভবং ছাড়া পাক গ্রেপ্তার হয়া ৪ জন। নইলে শুভেন্দুর বাসভবন শান্তিকুঞ্জ ঘেরাও হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

হয় ৪ জনের মুক্তি নয় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সকালে বলা, ‘আমাকেও গ্রেপ্তার করুন’ এই মুহুর্তে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের কাছে প্রতিবাদের ট্রেন্ড। রাজ্যের দিকে দিকে বহু কর্মী সমর্থকেরা এই মুহুর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করছেন, ‘CBI আমাকেও গ্রেপ্তার করুক।’ অখিল গিরির পুত্রও নিজের ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন একই কথা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here