২০২১ নির্বাচনে হবু শিক্ষকদের মন জিততে নয়া উদ্যোগ রাজ্য সরকারের।

২০২১ নির্বাচনে হবু শিক্ষকদের মন জিততে নয়া উদ্যোগ রাজ্য সরকারের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০২১ নির্বাচনে হবু শিক্ষকদের মন জিততে নয়া উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। শিক্ষক নিয়োগে অচলাবস্থা অব্যাহত। পরিস্থিতি এমন যে প্রতিদিন কোন না কোন আন্দোলনের খবর সামনে আসে। আজও উচ্চপ্রাথমিকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চাকরি প্রার্থীদের করা দুটি মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্যবসত সেই শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে। পাশাপাশি একই দিনে প্রাথমিকের হাজারো প্রশিক্ষিত টেট পাশ প্রার্থী এদিন স্মরনাপন্ন হন বিরোধী দলের নেতা নেত্রীদের কাছে। এই জোড়া খবরের দিনে এক তৃতীয় এবং কিছুটা আশাপ্রদ খবর।

আরও পড়ুনঃ দেশে সংক্রামিত ১৭ লাখ, মহারাষ্ট্রে সুস্থ যমজের জন্মদিলেন করোনা আক্রান্ত মা।

সামনেই ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী এবং তাঁদের পরিবারের ভোট রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে পড়তে পারে তা বিলক্ষন বুঝেছে রাজ্য সরকার। তাই সরকার চাইছে নির্বাচনের আগে দ্রুত নিয়োগ করে চাকরিপ্রার্থীদের মন জয় করতে। সেই কারনেই প্রাথমিক এবং উচ্চপ্রাথমিকে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিযোগের প্রস্তুতি নিল এদিন। রাজ্যে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষকতার চাকরির জন্য ডিএলএড ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। তাই লকডাউনের মধ্যেই সেই ডিএলএড কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া চালু করল রাজ্য সরকার। প্রায় ৪৬ হাজার আসনে ভর্তি নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

অনলাইনেই চলবে ভর্তির প্রক্রিয়া। রাজ্য সরকার জানিয়েছে ভর্তির জন্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে আগামী ১০ই আগস্ট থেকে ৩১শে আগস্টের মধ্যে। যদিও যে হাজার হাজ্র শিক্ষক পদপ্রার্থী ইতিমধ্যেই পাশ করে বসে রয়েছেন তাঁদের কি হবে সে বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করেনি রাজ্য সরকার। তবে জানা গেছে আদালতের সমস্যা মিটলে দ্রুত শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। ২০২১ নির্বাচনের আগে চাকরিপ্রার্থীদের মন জিততে নিয়োগ সমস্যা মেটাতে উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার বলে দাবি করেছে সূত্র।

উল্লেখ্য এদিন প্রশিক্ষিত প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ফের তাঁদের প্রতি সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরন নিয়ে সরব হন। তবে কোনো সরকারি দফতর, শিক্ষামন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নয়, এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে বেকারদের ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়লো সরাসরি সুজন চক্রবর্তী, অধীর চৌধুরী, বাবুল সুপ্রিয়, দিলীপ ঘোষ- সহ ২০ জন শাসকবিরোধী জনপ্রতিনিধিদের কাছে। শুক্রবার প্রশিক্ষিত প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী স্বদেশ ঘোষ ও গোলাম আহমেদসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী “আমাদেরকে বাঁচান!” ক্যাপশনে সমস্ত বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের কাছে WhatsApp এ গণ মেসেজ করে হস্তক্ষেপের কাতর আর্জি জানিয়েছেন। অনেকাংশের মতে ২০১৪ এর প্রাথমিক টেটে ব্যাপক দুর্ণীতির ফাঁস রুখতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নোটিফিকেশনে টেট পাশ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা উল্লেখ করেও কোনো টেট পাশ সার্টিফিকেট দেয় নি, যা NCTE – নিয়মেরও পরিপন্থী; কারণ NCTE নিয়মে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে একবার টেট পাশ করলে, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সার্টিফিকেট দিতে হবে যার মেয়াদ থাকবে ৭ বছর পর্যন্ত।

কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ দুর্ণীতি ফাঁস রুখতে নিজেদের কথার খিলাপ করে ও NCTE নিয়ম ভেঙে কাউকেই কোনো টেট পাশ সার্টিফিকেট দেয় নি।পরবর্তীতে নিজেদের হক আদায় করে নেওয়ার জন্য বহু প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। গত ০৮/০৪/২০১৯ তারিখে কোলকাতা হাইকোর্টে পিটিশনারদের পক্ষে রায় দিয়ে ২ মাসের মধ্যে পর্ষদকে টেট সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দিলেও পর্ষদ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবার জন্য ও সময় কাটানোর জন্য ডিভিশান বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটিকে ফেলে রেখে দিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এখানেই প্রশ্ন দানা বাঁধছে সরকার যদি কর্মপ্রাথীদের প্রতি এতটাই সহানুভূতিশীল হয় তাহলে কেনো এত টালবাহানা করে কারোর হকের জিনিস নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে?

টেট উত্তীর্ণ ও প্রশিক্ষিত প্রার্থী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে বাপন বিশ্বাস জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের পরেই নিয়োগে প্রশিক্ষণরতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী সেই সময়ে একমাত্র ২০১৪-২০১৬ ও ২০১৫-২০১৭ এই দুটি ব্যাচই প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ছিলো, কিন্তু সরকারী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পর্ষদ অর্ধপ্রশিক্ষিতদের নিয়োগে সুযোগ না দিয়ে প্রচুর অপ্রশিক্ষিত প্রার্থী নিয়োগ করেছে। পরবর্তীকালে একটা বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে ২০১৪-২০১৬ ব্যাচ ও RCI স্বীকৃত ২০১৫-২০১৭ ডি এড ব্যাচকে নিয়োগ পর্বের আওতায় আনা হলেও পর্ষদ বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ অধীনস্থ ২০১৫-২০১৭ ব্যাচকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করেছে। তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেছেন, বাইরের বোর্ড থেকে যারা ১৫-১৭ সেশনে ট্রেনিং করেছে পর্ষদ তাদেরকে চাকরি দিয়ে দিয়েছে অথচ পর্ষদ তার নিজের বোর্ডে থেকে যারা ওই একই সেশনে ট্রেনিং সম্পন্ন করেছে তাদেরকে সেই সুযোগ দেয় নি। এখানেই পর্ষদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা করার মারাত্মক অভিযোগ উঠছে। পর্ষদের এই নিষ্ঠুর দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদে ১৫-১৭ সেশনে প্রায় ৩০০ জন প্রশিক্ষিত টেট পাশ বঞ্চিত প্রার্থীরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েছেন

One thought on “২০২১ নির্বাচনে হবু শিক্ষকদের মন জিততে নয়া উদ্যোগ রাজ্য সরকারের।

  1. বিলক্ষণ বিলক্ষণ ই থাকবে। সূলক্ষণ আর হবে না। ইন্নালিল্লাহে ও ইন্নাল্লাহে ও রাজেউন পড়ে দিয়েছি। অনেক পরিবর্তন, অনেক উন্নয়ন দেখলাম আর কিছু দেখার সখ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x