উদ্দেশ্য মেটেনি তাই তৃণমূলে ফেরত যাচ্ছেন, সোনালি প্রসঙ্গে সাফ সাফাই দিলীপের

উদ্দেশ্য মেটেনি তাই তৃণমূলে ফেরত যাচ্ছেন, সোনালি প্রসঙ্গে সাফ সাফাই দিলীপের
উদ্দেশ্য মেটেনি তাই তৃণমূলে ফেরত যাচ্ছেন, সোনালি প্রসঙ্গে সাফ সাফাই দিলীপের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ উদ্দেশ্য মেটেনি তাই তৃণমূলে ফিরতে চান, সোনালি গুহ যখন দাবি করছেন  দিদির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা করতে বলতে বলেছিলো BJP! আর তাতেই নতুন ঘর ভেঙে কমাসের মাথাতেই পুরানো ঘরে ফিরতে চাইছেন তিনি। ঠিক তার পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সেসব উড়িয়ে সাফ জানালেন বিজেপিতে নিজের উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন সোনালি, মেটেনি এবার ফিরতে চাইছেন তৃণমূলে।

আরও পড়ুনঃঅক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৯, তবে কো-মর্বিডিটি থাকায় জয় গোঁসাইকে নিয়ে চিন্তায় চিকিৎসকেরা

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই দিদির তাঁর ওপর আস্থা না রাখায় ভীষণ অভিমানে দল চেড়েছিলেন মমতার এককালীন সর্বক্ষণের সঙ্গী সোনালী গুহ। সম্মানের ঘাটতি ছিলো তৃণমূলে! যাওয়ার আগে জানিয়ে ছিলেন, ‘বিজেপিতে সম্মানের জন্যই যাচ্ছি। কোনও টিকিট পেতে নয়’। তবে মোহ ভাঙতে লেগেছে কটা মাস। এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন তাঁর জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলের মতো।

মাত্র কয়েক মাসের মাথায় মোহভঙ্গ ঘটেছে সোনালি গুহর। অন্তত তিনি নিজে তেমনটাই জানিয়েছেন। ঘাসফুল শিবির থেকে পদ্মশিবিরে গিয়ে ফের ফিরতে চাইছেন পুরান ঘরে। ট্যুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে, তাঁকে ছাড়া বাঁচতে পারবেন না বলে। আর পাশাপাশি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক’মাসের দোসর বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও।

রিতীমত ট্যুইট করে লিখেছেন ‘সম্মানীয় দিদি, আমার প্রণাম নেবেন, আমি সোনালি গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়ে ছিলাম যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না, দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকা সুযোগ করে দিন’। সূত্রের খবর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তিনি।

এদিকে বিজেপি ছাড়ার পরেই ক’মাসের দোসর বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন ‘‘বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর মুকুল’দা বললেন, কী চাস? আমি টিকিট চাইনি, পয়সাও চাইনি।’ সঙ্গে অভিযোগ করেছেন তাঁকে বলে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা রটাতে। দীর্ঘদিবনের সঙ্গী সোনালির সাফ জবাব, দিদির সম্পর্কে কুৎসা জানেন না তিনি। খারপ দিক জানেন না তাই বলেন নি। তিনি শুধু জানেন দিদিকে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব। বিজেপিতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। আগের মতোই জানিয়েছেন তাঁর কাছে ফোন নাম্বার নেই দিদির। তাই ট্যুইট করেই ক্ষমা চেয়েছেন।

কিন্তু সোনালির এহেন ক্ষমা চেয়ে ঘরে ফেরার পর্ব শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে সোনালি সহ অনেকেই ভোটের আগে নিজেদের স্বার্থের কারণে এসেছিলেন। এখন স্বার্থ না মেটায় চলে যাচ্ছেন। তবে এই আসা যাওয়ার স্রোত দেখেই মোটেই বিচলিত নন ঘোষ বাবু। তাঁর সাফ যুক্তি, ‘‘এঁদের আসা যাওয়াতে সংগঠনের কোনও ক্ষতি হয় না। যাঁরা দলের প্রকৃত সৈনিক তাঁরা সব সময়ে লড়াইতে থাকেন।’’

উল্লেখ্য শুভেন্দু আধিকারীর পর থেকে কোন না কোন কারণ দেখিয়ে বহু নেতা মন্ত্রী গিয়েছিলেন বিজেপিতে। যেভাবে গিয়েছিলেন সেভাবেই আবার ফিরেও আসছেন অনেকেই। শুভেন্দুর পদ্মবনে যাওয়ার পর থেকেই এককথায় দল ভারী হয়েছিল বিজেপির। প্রায়ই যোগদান মেলা থেকে পদ্মবনে নাম লেখাতেন খ্যাত অখ্যাত নেতা-কর্মী বহু জনে। এবার তাঁদের অনেকেই ক’মাসেr মাথাতেই ভাঙছেন নতুন সংসার। আর তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলের অন্দরে। বিজেপির কেন্দ্রীয় টিম থেকে দিলীপ-কৈলাসে, অনেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে প্রকাশ করছেন ক্ষোভ। মেলা করে এতো পরিমাণ লোক নেওয়ার অনেক সময় রাজ্য টিম বা জেলার নেতাদের বলাই হয়নি। তাঁদের যুক্তি তাঁরা কখনোই এমনটা হতে দিতেন না। এতে দলের ভাবমূর্তি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে বলেই মত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here