‘জীর্ণ পাতা ঝরে গেলে ক্ষতি হয় না’, দিলীপের কটাক্ষে অপমানিত BJP-র মুকুল অনুগামীরা!

ভোটে জিতে প্রথম গেলেন কৃষ্ণনগরে! চেনা ছকে বিজেপির ঘর ভেঙে ফিরছেন মুকুল
ভোটে জিতে প্রথম গেলেন কৃষ্ণনগরে! চেনা ছকে বিজেপির ঘর ভেঙে ফিরছেন মুকুল

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘জীর্ণ পাতা ঝরে গেলে ক্ষতি হয় না।’ নাম না করে মুকুল রায় কে নিশানা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সপুত্রক মুকুল রায় দুদিন আগেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। সাদরে গ্রহণ করেছে তৃণমূল। আবার স্বমহিমায় ফিরেছেন মুকুল। কিন্তু সর্বভারতীয় সহ সভাপতি বিজেপি ত্যাগ করার পর গেরুয়া শিবিরের রাজ্য নেতাদের তেমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি শুরুতে। শোনা যাচ্ছিল প্রতিক্রিয়া দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আরও পড়ুনঃ যোগ্য হাতেই দলের রাশ, শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ উড়িয়ে বিজেপির ‘মুকুল’ ঝরালেন অভিষেক!

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিন অর্থাৎ সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপির একাধিক বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের সাথে। ব্যাস, সাথে সাথেই কটাক্ষের ঝড়। চ্যালেঞ্জের আত্মম্ভরিতা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে বসে মন্তব্য করলেন, “এখন বিরোধী দল বিজেপি, প্রতিপক্ষের নেতা শুভেন্দু অধিকারী! চ্যালেঞ্জ করছি, দল ভাঙিয়ে দেখান!” রাজ্যে বসে একই সুর বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গলাতেও। বললেন, “চ্যালেঞ্জ করেই বলছি, আমাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে দেখাক। তৃণমূলের নেতারা ওই রকম অনেক কথাই বলেন।”

সোম থেকে শুক্র, মাত্র ৫ দিনের ব্যাবধানে সেই চ্যালেঞ্জের জবাব হাতে কলমে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহান্তে দলে নিয়ে এলেন বিধায়ক তো বটেই, কার্যত বাংলার বিজেপিকে নব রূপ দেওয়ার কারিগর তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় কে। বিজেপি থেকে মুকুল ঝরে যেতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূলে ফেরত আসার হিড়িক। লম্বা লাইন… অনেকে আবার কান্নাকাটি শুরু করেছেন।

একদিন সময় নিয়ে শনিবার নিজের পুরনো বক্তব্য পাশ কাটিয়ে দিলীপ বলেন, “BJP মহাসাগরের মতো। সেখান থেকে কয়েকবিন্দু জল চলে গেলে কোনও সমস্যা হবে না। কোটি কোটি মানুষ দল করে। তাঁদের নীতি আদর্শ রয়েছে।” এই বক্তব্যের পাশাপাশি একটি ট্যুইট করেছেন দিলীপ ঘোষ। যেখানে বলা হয়েছে, ‘জীর্ণ পাতা গাছের কোনও কাজে আসে না। জীর্ণ পাতা ঝরে গেলে কোনও ক্ষতি হয় না। বরং গাছ নতুন পাতায় ভরে ওঠে। নবজীবন লাভ করে গাছ।’ ট্যুইটারের পোস্টে কোথাও মুকুল রায়ের নাম উল্লেখ করেননি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু তাঁর এই পোস্ট যে মুকুল রায়কে ইঙ্গিত করে তা নিয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

‘জীর্ণ পাতা ঝরে গেলে ক্ষতি হয় না’, দিলীপের এই কটাক্ষে চরম অপমানিত BJP-র মুকুল অনুগামীরা! বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, ‘মুকুল রায় দল ছাড়ায় BJP-র ক্ষতি হবে। যোগ্যতার নিরিখে BJP-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডার পরই মুকুল রায়ের নাম আসে!’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here