রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বহুদিনের ডিএ আন্দোলন নতুন মোড় নিতে চলেছে। আগামী ৩০ মে নবান্নে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ইস্যুতে চারটি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই বৈঠকে সব সংগঠনকে না ডেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটিকে আমন্ত্রণ জানানোয় শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। ক্ষোভে ফুঁসছে বঞ্চিত সংগঠনগুলি।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ মে সকাল ১১টায় নবান্নে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের প্রতিনিধিরা। ডিএ, পে কমিশন এবং কর্মচারীদের বকেয়া দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


তবে বৈঠকে ডাক না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভাজনের রাজনীতি করছে।
সিপিআইএম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যেই পরিচালনা করুক না কেন, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব হওয়া উচিত সব পক্ষকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর আন্দোলন, আদালতে লড়াই এবং কর্মসূচি চালানোর পরও তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হল না।
বিশ্বজিতের কথায়, ডিএ-র দাবিতে অতীতে বহু কর্মচারীকে আন্দোলনের জন্য হেনস্তা হতে হয়েছে, এমনকি জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছে। সেই আন্দোলনের ইতিহাসকে অস্বীকার করেই বর্তমান সরকার নির্বাচিত কয়েকটি সংগঠনকে নিয়ে আলোচনায় বসছে বলে দাবি তাঁর।


অন্যদিকে বৈঠকে ডাক পাওয়া সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অবশ্য অন্য সুরে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী কাদের ডাকবেন, তা সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে দীর্ঘদিন ধরে ডিএ-র দাবিতে তাঁদের ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণেই হয়তো সরকার তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভাস্কর আরও জানান, বৈঠকে তাঁরা শুধুমাত্র নিজেদের সংগঠনের নয়, সমস্ত সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন। তাঁর দাবি, অতীতের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার অন্তত আলোচনার দরজা খুলেছে।
প্রশাসনের একাংশের দাবি, যেসব সংগঠন ডিএ মামলায় আদালতে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালিয়েছে, মূলত তাদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য, আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত কর্মচারীদের দাবিদাওয়া মেটানোর রাস্তা খোঁজা।
তবে বৈঠকে বাদ পড়া বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, ডিএ আন্দোলনে বহু সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দেওয়া হল কেন? তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত কর্মচারী মহলে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরি করছে।
এখন নজর ৩০ মে-র বৈঠকের দিকে। ডিএ, পে কমিশন এবং বকেয়া দাবিদাওয়া নিয়ে সরকার কী রূপরেখা দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনে সরকারি কর্মচারী মহলের অবস্থান কতটা বদলায়।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



