প্রতীক্ষার অবসান, ১০ই আগস্ট করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আনছে রাশিয়া।

প্রতীক্ষার অবসান, ১০ই আগস্ট করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আনছে রাশিয়া।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রতীক্ষার অবসান, ১০ই আগস্ট করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আনছে রাশিয়া। বিশ্ব জুড়ে হুহু করে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৭০ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৬৩ জন। এই বিপুল সংখ্যক আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯০৫ জনের। এখন সারা বিশ্বে চিকিত্‍সাধীন রয়েছেন ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৭৮৩ জন। এই বিপুল সংখ্যক আক্রান্তের মধ্যে সংকটজনক আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ হাজার ৫৩০ জন। সমগ্র বিশ্ববাসী এই অবস্থায় যে খবর শোনার জন্যে অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে অবশেষে সেই খবর দিল রাশিয়া।রাশিয়া জানিয়েদিল করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রস্তুত।

আরও পড়ুনঃ তুলে নেওয়া হল কার্ফু; দেশজুড়ে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা কেন্দ্রের।

রাশিয়াতেও করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ভয়ানক গতিতে। যদিও সেই গতিকে পরাস্ত্র করে রাশিয়াকে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর নিরিখে পেছনে ফেলেছে ভারত। রাশিয়া এই মুহুর্তে সংক্রমনের নিরিখে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সেদেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লক্ষ ২৮ জাজার ৯৯০ জন। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৩ জনের। এখন চিকিত্‍সাধীন রয়েছেন ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯৮৪ জন। সাড়ে ১৪ কোটি জনসংখ্যার রাশিয়া এখন পর্যন্ত টেস্ট করেছে দেশের ২ কোটি ৭৫ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জনের! যা প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যা পিছু ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯১২।

প্রতীক্ষার অবসান, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের চতুর্থ সংক্রামিত দেশ রাশিয়া দাবি করল তাঁরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রস্তুত করে ফেলেছে। আগামী ১০ই আগস্টের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে যাবে। রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে এই টিকা। প্রতিষেধকের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর প্রথমে ফ্রন্টলাইনে থাকা করোনা যোদ্ধা এবংস্বাস্থ্যকর্মীদের এই টিকা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে রাশিয়া সরকার। রাশিয়া-র এই করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারকে ১৯৫৭ সালে বিশ্বের প্রথম মহাশূণ্যে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রকের প্রধান কিরিল দিমিত্রেভ।

যদিও রাশিয়া এখনও তাঁদের ভ্যাকসিন সম্পর্কিত গবেষনাপত্র প্রকাশ করেনি। রাশিয়ার স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে প্রথম এবং দ্বিতীয় ট্রায়ালে অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে। শেষ ট্রায়াল হবে আগামী ৩ আগস্ট, সেই ট্রায়ালের জন্যে ৮০০ জন সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত আছেন। শেষ ট্রায়াল সফল হওয়ার পরেই ভ্যাকসিন বিশ্ব বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে জানানো হয়েছে ভ্যাকসিন প্রথম পাবেন করোনা যোদ্ধারা। তারপর ধাপে ধাপে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষেরা। সবশেষে ভ্যাকসিন পৌঁছে যাবে সবার কাছে।

তবে দিনে কত পরিমান ভ্যাক্সিন রাশিয়া প্রস্তুত করতে পারবে সে বিশয়ে কিছু জানায়নি রাশিয়া সরকার। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা করোনা যোদ্ধাদের জন্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪ কোটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে। অর্থ সরবরাহ করছে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x